মঙ্গলবার । মার্চ ১৭, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক বিজনেস ১৭ মার্চ ২০২৬, ২:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১৮০ দিনের পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন বিডা চেয়ারম্যান


Ashik

বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন মাহমুদ হারুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাজের ধরণ এবং নেতৃত্ব নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন মাহমুদ হারুন। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি প্রধানমন্ত্রীর ধৈর্যশীলতা এবং ফলাফলমুখী নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। আশিক চৌধুরী উল্লেখ করেন যে গত এক মাসে বিভিন্ন আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে একজন ভালো শ্রোতা হিসেবে পেয়েছেন। তিনি জানান প্রধানমন্ত্রী কাউকে কিছু চাপিয়ে না দিয়ে বরং সবার কথা ধৈর্য ধরে শুনছেন এবং প্রতিটি কাজের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন করছেন।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যানের মতে প্রধানমন্ত্রী সময়ানুবর্তিতা এবং শিষ্টাচারের মাধ্যমে নিজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নেতৃত্ব দেওয়ার চেষ্টা করছেন। একই পোস্টে তিনি বিডা ও বেজার আগামী ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথা দেশবাসীকে অবহিত করেন। তিনি বলেন সরকারি সংস্থাগুলোতে জবাবদিহিমূলক সংস্কৃতি তৈরি করা এখন সময়ের দাবি এবং সেই লক্ষ্যেই এই ছয় মাসের প্রতিশ্রুতি। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই নিম্নমুখী হওয়ায় এখন দেশি বিনিয়োগের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। জ্বালানি সংকট ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই বিডা তাদের ২৫টি পদক্ষেপ নির্ধারণ করেছে বলে তিনি জানান।

কর্মপরিকল্পনার উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি বন্ধ ও রুগ্ন শিল্প কারখানাগুলোকে পিপিপি মডেলে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া। এছাড়া মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল বা ফ্রি ট্রেড জোন এবং সমরাস্ত্র শিল্প নীতিমালা প্রকাশের বিষয়টিও অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে। দুর্নীতি রোধ ও আমদানির সময় কমাতে সমুদ্র ও বিমানবন্দরে আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রীর জন্য একটি বিশেষ ‘প্রাইভেট সেক্টর অ্যাডভাইসরি কাউন্সিল’ গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘বাংলাবিজ’-এর সম্প্রসারণ এবং কোরিয়া-বাংলাদেশ ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আশিক চৌধুরী জানান ছয় মাস শেষে এই পরিকল্পনাগুলোর সাফল্য ও ব্যর্থতা নিয়ে একটি রেজাল্ট কার্ড প্রকাশ করা হবে। ব্যক্তিগত প্রসঙ্গে তিনি রসিকতা করে বলেন যে প্রধানমন্ত্রী তাকে আবারও প্যারাসুট নিয়ে ঝাঁপ দেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন। কাজের চাপে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো সেলফি তোলা হয়ে ওঠেনি বলেও তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেন। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে এই ১৮০ দিনের পরিকল্পনা দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে তিনি আশাবাদী। সবশেষে তিনি একটি ফটোকার্ডের মাধ্যমে অগ্রাধিকারমূলক কাজগুলোর তালিকা সবার সাথে শেয়ার করেন।