sentbe-top

ই-ভিসা জটিলতায় অনেক হজযাত্রীর ফ্লাইট অনিশ্চিত

hajjই-ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় এবারও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে হজযাত্রীদের। নির্দিষ্ট সময়ে অনেকেই হজে যেতে পারছেন না। দেখা গেছে, একই পরিবারের স্বামী ও স্ত্রী আবেদন করলেও এ সমস্যার কারণে একজনের ভিসা লেগেছে, অন্যজনের পাসপোর্টে ভিসা না দিয়ে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার সকালে আশকোনা হজক্যাম্প ঘুরে এমন তথ্য জানা গেছে। ই-ভিসা জটিলতার কারণে কনফার্ম থাকার পরও যাত্রীরা বিমানে উঠতে পারছেন না। যাত্রীদের হজক্যাম্প থেকে বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়ার পর ভিসা বুঝিয়ে দিতে না পেরে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সার্ভার সমস্যার কারণে অনেকে ই-ভিসা প্রিন্ট নিতে পারছেন না। এ কারণে যারা যেতে পারছেন না তাদের ফের কবে পাঠানো হবে- সে বিষয়েও নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না স্বয়ং মোয়াল্লিমরাও। ফলে ভুক্তভোগীদের মধ্যে পবিত্র হজ পালন নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা গেছে।

এমন এক ভুক্তভোগী মোহাম্মদ ইয়ার, পাসপোর্ট নং- বিএন০৩০৫৮৫৮। তিনি জানান, বুধবার বিকেল ৫টায় সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের এসভি- ৮০৭ ফ্লাইটে স্ত্রী জীবন নিসাকে (পাসপোর্ট নং- বিএন০৩০৫৮৬১) নিয়ে বিমানে ওঠার কথা। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে বলা হয়, এখনও ভিসা হয়নি। আপনারা ফ্লাই করতে পারবেন না। ‘আবার কবে ফ্লাইট কনফার্ম করা হবে- সেটিও নিশ্চিত করতে পারেননি মোয়াল্লিম’- অভিযোগ করেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেবল মোহাম্মদ ইয়ারই নন, এমন অসংখ্য হজযাত্রী ই-ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় প্রতিদিন নিরাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।

আশকোনা হজক্যাম্প ঘুরে জানা গেছে, ভিসা না হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন বেশ কয়েকটি এজেন্সির মালিক এবং তাদের হাজারখানেক হজযাত্রী। এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তারা ভিসার জন্য হজক্যাম্পে আবেদন করেন। সে আবেদন সৌদি দূতাবাসে পাঠানোর পরও এখন পর্যন্ত ভিসা দেয়া হচ্ছে না। এজন্য প্রথমে দূতাবাস থেকে হজক্যাম্পকে ব্যাখ্যা দিয়ে বলা হয়, ই-ভিসা জটিলতার কারণে এমনটি হচ্ছে। আবেদনপত্রের ছবি ছোট-বড় হওয়ায় ভিসা দেয়া যাচ্ছে না।

এ সমস্যার ত্বরিত সমাধান না হলে বরাবরের মতো এবারও হাজার হাজার যাত্রীর হজ পালনে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। এমনটি মনে করছেন হজ এজেন্সির সংশ্লিষ্টরা।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব শাহাদাত হোসেন তসলিম ই-ভিসা জটিলতা প্রসঙ্গে বলেন, এবার হজ ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হবে না বলে আমরা আশা করেছিলাম। কিন্তু ই-ভিসা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ‘এটি আসলে এককভাবে বাংলাদেশের সমস্যা নয়। সারাবিশ্বের হাজিরাই এ সমস্যার সম্মুখীন। সৌদি আরবও এ সার্ভার নিয়ন্ত্রণ করে না। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমস্যা নয়।’ ‘ই-ভিসার প্রিন্ট জটিলতায় কোনো যাত্রীর ফ্লাইটের ডেট যদি পরিবর্তন করতে হয় সেক্ষেত্রে কোনো বাড়তি অর্থ গুনতে হবে না’ বলেও উল্লেখ করেন হাব মহাসচিব।

এদিকে কেন ভিসা হচ্ছে না- তা জানতে প্রতিদিনই হজ অফিসে ধরনা দিচ্ছেন এজেন্সির মালিকরা। নাম না প্রকাশের শর্তে এক এজেন্সির মালিক বলেন, আমরা টিকিট কেটে রেখেছি অথচ ফ্লাইটের দিনেও ভিসা ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এজন্য তিনি দূতাবাস, মন্ত্রণালয় ও হাবের সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করেন।

sentbe-top