sentbe-top

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি তরুণে সফলতার গল্প

shamimদেশের বাইরে ব্যবসা-বাণিজ্য করে যারা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন তাদেরই একজন উদ্যমী ও কঠোর পরিশ্রমী তরুণ ইসরাফুল আল শামীম। তিনি মালয়েশিয়ার জহুরবারুতে এসএসআই মাজু ম্যানেজমেন্ট এসডি এনবি এইচডি ও ইয়ামি বিরিয়ানি হাউজ নামে গড়ে তুলেছেন ১৪টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। নিজের ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি বিদেশে অন্যান্য উদ্যোক্তা ব্যবসায়ীদের নানাবিধ সহযোগিতাসহ বিনিয়োগ নিয়েও কাজ করছেন। শামীম একজন বাংলাদেশি হিসেবে মালয়েশিয়ার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।

বাংলাদেশের এই তরুণ কৃতি উদ্যোক্তা ১৯৯০ সালে মুন্সিগঞ্জ জেলার দক্ষিণ কুঠগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। মো. হোসেন ও শাহীদা বেগমের ছোট ছেলে শামীম। ছোটবেলা থেকেই তার শখ ছিল ব্যবসা করার। স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষাগ্রহণ শেষ করেই খুব অল্প বয়সে ২০০৮ সালে ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কলিং ভিসায় মালয়েশিয়া গমন করেন। তখন থেকে টানা তিন বছর জহুরবারুর সেন্তুসায় কারওয়াশের একটি শো-রুমে কাজ করেন।

বুদ্ধিদীপ্ত শামীম গভীরভাবে সে দেশের উন্নয়ন এবং সেখানকার মানুষের জীবনযাপন, চাহিদা ইত্যাদি পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি শুরুতেই অনুভব করেন, এখানে কিছু করতে চাইলে প্রথমেই তাদের ভাষা, কালচার, খাবার এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে হবে। শামীম ধীরে ধীরে এ জিনিসগুলো রপ্ত করতে থাকেন। ২০১০ সালের শেষ দিকে তিনি জহুর প্রদেশের সেন্তুসায় ব্যবসা শুরু করেন। আজ তিনি সেদেশের তরুণদের মধ্যে একজন সফল ব্যবসায়ী।

shamimএই তরুণ যেমন উদ্যমী তেমনি পরিশ্রমী। আর এ কারণেই তার ব্যবসার বিস্তার ঘটতে থাকে এবং এক ব্যবসা থেকে অনেক ব্যবসা করার সুযোগ লাভ করেন। শামীমের ব্যবসার প্রসার ঘটাতে এবং সহযোগিতা করতে তার বড় ভাই শাহীনও ছুটে যান মালয়েশিয়ার জহুরবারুতে। বর্তমানে শামীম ১২টি কারওয়াশ শো-রুম ও ২টি রেস্টুরেন্টের মালিক। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার প্রায় শতাধিক শ্রমিক কাজ করছেন।

বাংলাদেশি শ্রমিক সাদ্দাম ও আসাদুজ্জান জানান, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি মালিকের অধীনে কাজ করছি ভালোই লাগছে। মনে হচ্ছে আমরা দেশেই কাজ করছি। বেতনও ভালো। আমাদের মালিক খুবই আন্তরিক। কাজের ফাঁকে ফাঁকে আমাদের খোঁজ-খবর রাখেন। মালয়েশিয়ায় শনি ও রোববার সরকারি ছুটি থাকায় প্রচুর কাস্টমার কারওয়াশের শো-রুমগুলোতে ভিড় জমান। শুধু তাই নয়, সিঙ্গাপুর থেকেও কাস্টমাররা চলে আসেন শামীমের শো-রুমে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ানরা শামীমের এ অক্লান্ত পরিশ্রম ও ব্যবসার প্রসার দেখে তাকে গ্রেট বিজনেসম্যান হিসেবেই মানছেন।

শামীম বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়ার ব্যবসায়িক সম্পর্ক, বাংলাদেশে মালয়েশিয়ানদের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ২০১০ সালে এসএসআই মাজু মেনেজমেন্ট এসডি এনবি এইচডি নামে ব্যবসা চালুর মাধ্যমে বাংলাদেশিদের ব্যবসা ক্ষেত্রে এগিয়ে আসার ব্যাপারে উৎসাহিত করতে সক্ষম হন। পরবর্তীতে বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের অনেকেই ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে শুরু করেন। তার এই উদ্যোগের কারণে মালয়েশিয়ার জহুরবারুতে বাংলাদেশি অনেক তরুণরা ও ব্যবসা করতে এগিয়ে এসেছেন।

শামীম মনে করেন, শুধুমাত্র দূতাবাসের মাধ্যমেই নয়, একজন বাংলাদেশি হিসেবে অন্য একজন বাংলাদেশিকে সাধ্যমত সহযোগিতা করা প্রয়োজন। কারণ, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মানুষ যে ভাতৃত্ব ও সহমর্মিতা দেখায় আমরা কেন জানি তা থেকে পিছিয়ে রয়েছি। এ জন্যে তিনি প্রত্যেক বাংলাদেশিকে ব্যবসা প্রসারে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

শামীম বলেন, আমাদের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে না পারলে আমরা কেউই ভালো থাকব না।

sentbe-top