cosmetics-ad

প্রত্যাবাসন প্রস্তুতির মধ্যেও আসছে রোহিঙ্গারা

rohingas

রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রস্তুতির মধ্যেই প্রায় প্রতিদিনই বিক্ষিপ্তভাবে দলে দলে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে রাখাইন থেকে আসা বিপদগ্রস্ত রোহিঙ্গারা। প্রায় তিন মাস আগে রোহিঙ্গাদের রাখাইন রাজ্যে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি সই করে মিয়ানমার। এরপর দুদেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠন করা হয় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ।ওই গ্রুপের বৈঠকে আগামী দুবছরের মধ্যে সব রোহিঙ্গাকে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের শর্তে ‘ফিজিক্যাল অ্যারেজমেন্ট’ চুক্তিও করা হয়। এছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশে সফরে আসা মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিয়াও সোয়ের কাছে প্রায় আট হাজার রোহিঙ্গার একটি তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু এই প্রত্যাবাসন প্রস্তুতির মধ্যেও বাংলাদেশে নতুন করে রোহিঙ্গাদের প্রবেশ থেমে নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফেব্রুয়ারি মাসের গত ২২ দিনে বাংলাদেশে এসেছে ৫৯৩টি রোহিঙ্গা পরিবার। এই পরিবারগুলোর সদস্য সংখ্যা দুই হাজারের ওপরে। এরা সবাই দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বাংলাদেশ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে নাফ নদীর মোহনা হয়ে বাংলাদেশে এসেছে। পরে টেকনাফের নয়াপাড়া ও উখিয়ার বালুখালী রোহিঙ্গা শিবিরে তাদের রাখা হয়েছে।পালিয়ে আসা এসব রোহিঙ্গারা বলছেন, বর্তমানে রাখাইনে সেনাবাহিনীর নির্যাতন বন্ধ হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখনও যেসব রোহিঙ্গা রাখাইনে রয়েছেন, তারা অনেকটা গৃহবন্দি হয়ে জীবনযাপন করছেন। হাট-বাজারে যাওয়া তো দূরর কথা, বাড়ি থেকে তাদের বের হওয়ার ওপরও অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে খেয়ে না খেয়ে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। সে কারণে তারা বাংলাদেশে আসছে।

সম্প্রতি টেকনাফের জলসীমানা দিয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আসেন রোহিঙ্গা নারী মরিয়ম খাতুন। এখন তিনি আশ্রয় পেয়েছেন উখিয়ার কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে। মরিয়ম খাতুন বলেন, ‘রাখাইনে এখনও যারা রয়েছেন, তারা অনেকটা একবেলা খেয়ে তিন বেলা না খেয়ে বেঁচে আছেন। নির্যাতন বন্ধ হলেও রাখাইনের রোহিঙ্গাদের চলাফেরার ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আছে। হাট-বাজার তো দূরের কথা, পুরুষদের বাড়ি থেকে বের হতেও দেওয়া হয় না।’একই শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন রোহিঙ্গা দুদু মিয়া ও আব্দুল কাদের। তারা বলেন, ‘দ্বি-পাক্ষিক চুক্তিতে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে যথাযথ প্রস্তুতি এবং নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছে মিয়ানমার সরকার। কিন্তু এখনও রাখাইনের রোহিঙ্গা গ্রামগুলো নিরাপদ হয়ে উঠেনি। কথায় কথায় পুরুষদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কঠিন পরিশ্রমের কাজে লাগানো হয়। কিন্তু শেষমেশ কোনও পারিশ্রমিক না দিয়েই তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়। অভাব-অনটনে পালিয়ে আসা ছাড়া কোনও উপায় নেই।’

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২৪ নভেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তিতে সই করে মিয়ানমার। এরপর দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের পর গত ১৯ ডিসেম্বর টার্মস অব রেফারেন্সের সম্মতিপত্রে সই করে দুদেশ। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সফরে আসেন মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিয়াও সোয়ে। ওই সময় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তার কাছে ৮০৩২ জন রোহিঙ্গার তালিকা হস্তান্তর করা হয়। সর্বশেষ গত ২০ ফেব্রুয়ারি নো-ম্যানস ল্যান্ডে অবস্থানকারী রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে রাখাইনের ঢেকিবনিয়া ক্যাম্পে বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে বৈঠক হয়। কিন্তু এসবের মধ্যেও রোহিঙ্গারা বিক্ষিপ্তভাবে বাংলাদেশে ঢুকছে। আর অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতির নিবন্ধন কার্যক্রম বিলম্বিত হচ্ছে।

এ ব্যাপারে টেকনাফ সাবরাং হারিয়াখালী ত্রাণকেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘গত দুই দিনে ৭৯টি পরিবারের ৩০৩ জন রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছে। নতুন করে আসা রোহিঙ্গাদের প্রথমে সেনাবাহিনীর হারিয়াখালী ত্রাণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়। এরপর মানবিক সহায়তা দিয়ে টেকনাফের নয়াপাড়া ও উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে পাঠানো হয়। প্রতিদিনই বাংলাদেশে আসছে রোহিঙ্গারা।’পাসপোর্ট অধিদফতরের মহা-পরিচালক মেজর জেনারেল মো. মাসুদ রেজুয়ান। তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ অব্যাহত থাকায় বায়োমেট্রিক নিবন্ধন শেষ করা যাচ্ছে না। তবে নতুন করে যারা আসছে, তাদেরও বায়োমেট্রিক নিবন্ধন হচ্ছে। প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’