মহাকাশ যুগে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টা ১৪ মিনিট। স্পেসএক্স এর ফ্যালকন-৯ রকেটের নতুন সংস্করণ ব্লক ফাইভ ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাড থেকে একটি বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট সঙ্গে নিয়ে রওনা হল মহাকাশের পথে। স্যাটেলাইটের গায়ে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকার রঙের নকশার ওপর ইংরেজিতে লেখা বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু ১। দেশের প্রথম বণিজ্যিক স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়েই মহাকাশ যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি স্পেসএক্সের ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হল। উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি হিসেবে ৪ মে স্যাটেলাইটটি বহনকারী রকেটের স্ট্যাটিক ফায়ার টেস্ট সম্পন্ন হয়। স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণে ব্যবহার হবে ফ্যালকন-৯-এর সর্বশেষ সংস্করণ ব্লক ৫। এক দশকের গবেষণার ধারাবাহিকতায় নতুন এ সংস্করণ তৈরি হয়েছে। রকেটটির দুটি অংশ— ফার্স্ট ও সেকেন্ড স্টেজ। এর মধ্যে ফার্স্ট স্টেজে রয়েছে স্পেসএক্স উদ্ভাবিত নয়টি মার্লিন ইঞ্জিন। আর সেকেন্ড স্টেজে রয়েছে একটি ইঞ্জিন। রকেটের ফার্স্ট স্টেজটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য। সেকেন্ড স্টেজের উপরে রয়েছে পেলোড, যা স্যাটেলাইটটিকে বহন করবে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মাণ করেছে ফ্রান্সের থেলিস অ্যালেনিয়া স্পেস। নির্মাণ, পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও হস্তান্তর শেষে বিশেষ কার্গো বিমানে করে সেটি উৎক্ষেপণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল লঞ্চ প্যাড থেকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নেয়া হয়। তবে হারিকেন ইরমায় ফ্লোরিডায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় ওই লঞ্চ প্যাড থেকে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বন্ধ থাকে। ফলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ পিছিয়ে যায়। এরপর ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য দিন নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে ৫ এপ্রিল, ২৪ এপ্রিল, ২৭ এপ্রিল, ৪ মে ও ৭ মে উৎক্ষেপণের তারিখ নির্ধারিত হলেও বিভিন্ন জটিলতায় তা আরো পিছিয়ে যায়।

অবশেষে শুক্রবার দিবাগত রাতে স্পেসএক্সের ইউটিউব চ্যানেলে এই উৎক্ষেপণের ‘লাইভ স্ট্রিমিং’ দেখানো হয়। আর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভি ওই উৎক্ষেপণ সরাসরি সম্প্রচার করে। মোটামুটি আধা ঘণ্টার মাথায় বঙ্গবন্ধু-১ পৌঁছে যায় জিওস্টেশনারি ট্রান্সফার অরবিটে।

স্পেসএক্সের লাইভ ওয়েবকাস্টের মধ্যেই ধারণ করা এক ভিডিওবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা স্যাটেলাইট ক্লাবের গর্বিত সদস্য হলাম। প্রবেশ করলাম নতুন যুগে। ’

এতদিন বিদেশী স্যাটেলাইট ভাড়া করে সম্প্রচার ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ে গবেষণার কাজ চালিয়ে আসছিল বাংলাদেশ। যাতে ব্যয় হতো প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থনীতির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তাই ৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। নিজস্ব যোগাযোগ স্যাটেলাইট কাজ শুরু করার পর বাংলাদেশ ভাড়া স্যাটেলাইটের নির্ভরশীলতা কাটিয়ে উঠে অর্থ সাশ্রয় করতে পারবে বলে সরকার আশা করছে। বণিকবার্তার সৌজন্যে।