cosmetics-ad

এবার ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ!

india-test-team

এবার ফিক্সিংয়ের অভিযোগ উঠেছে খোদ ভারতের বিপক্ষে। যারা নিজেদের ক্রিকেট বিশ্বের মোড়লে পরিণত করেছে। পরিচ্ছন্ন ক্রিকেটের ধুয়া তুলে বেড়াচ্ছে। তারাই কি না গত দুই বছরে অন্তত তিনটি টেস্ট ম্যাচ পাতিয়েছিল। আল জাজিরার এক ডকুমেন্টারিতে উঠে এসেছে ভারতের ম্যাচ ফিক্সিংয়ের এই তথ্য।

‘ক্রিকেট ম্যাচ ফিক্সারস’- নামে আল জাজিরার এই অনুসন্ধানী ডকুমেন্টারিতে উঠে এসেছে গত তিন বছরে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তিন ম্যাচে ফিক্সিং করেছিল ভারতীয়রা। এর মধ্যে ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুটি টেস্ট ভারতের মাটিতে এবং শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাকি টেস্টটি শ্রীলঙ্কার মাটিতেই পাতিয়েছিল ভারত।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাতানো টেস্টটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল চেন্নাইতে, ২০১৬ সালের ১৬ থেকে ২০ ডিসেম্বরে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাতানো টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাঁচিতে ২০১৭ সালের মার্চে, ১৬ থেকে ২০ তারিখ। আর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে পাতানো টেস্ট ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৭ সালেই গলে, ২৬ থেকে ২৯ জুলাইয়ে। আল জাজিরার তদন্তে উঠে এসেছে, প্রতিটি ম্যাচই প্রভাব বিস্তার করেছিল জুয়াড়িরা।

ওই তদন্তেই বেরিয়ে এসেছে, রাঁচিতে অনুষ্ঠিত ভারত-অস্ট্রেলিয়া টেস্টে অন্তত দু’জন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার জড়িত ছিল ম্যাচ ফিক্সিংয়ে। আর ভারত-ইংল্যান্ড ম্যাচে অন্তত তিনজন ইংলিশ ক্রিকেটার জড়িত ছিল এর সঙ্গে। যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে ইংলিশ ক্রিকেটাররা। আর অস্ট্রেলিয়া বলেছে, তাদের কাছে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণছাড়া এসব অভিযোগের ভিত্তি নেই।

রোববারই আল জাজিরার অনলাইনে এই ডকুমেন্টারিটি প্রকাশ করার হয়। এরপরই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড এ নিয়ে জানিয়েছেন, ফিক্সিংয়ের বিষয়ে তারা সব সময়ই আইসিসি অ্যান্টি করাপশন অ্যান্ড সিকিউরিটি ইউনিটকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘যদিও আমরা ডকুমেন্টারিটি সম্পূর্ণ দেখার সুযোগ পাইনি কিংবা কোনো আসল (সম্পাদনা করাছাড়া, র ফুটেজ) ফুটেজ দেখিনি। তবুও আইসিসির সঙ্গে ফিক্সিং নিয়ে আমাদের দীর্ঘ সহাবস্থান সব সময়ই অটুট থাকবে। অভিযোগ যদি নির্ভরযোগ্য হয় তাহলে আমরা একে খুব সিরিয়াসলি গ্রহণ করবো এবং পূর্ণ তদন্ত করবো।’

ফিক্সিংয়ের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ান খেলেয়াড়দের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সম্পর্কে সাদারল্যান্ড জানান, আইসিসি কিংবা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া অবশ্যই নির্ভরযোগ্য প্রমাণ সাপেক্ষে ফিক্সিংয়ের বিষয়ে সঠিক পন্থায় এগিয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, ক্রিকেটের স্পিরিট নষ্ট হয় এমন কোনো ধরনের কাজ-কর্মের সঙ্গে জড়িত কোনো কিছুর প্রতিই জিরো টলারেন্স নীতি প্রদর্শণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে আইসিসি জানিয়েছে, তারা খুব শিগগিরই আল জাজিরার ডকুমেন্টারিতে উঠে আসা ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখবে। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ক্রিকেটের অভিভাবক সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘একটি নিউজ অর্গানাইজেশনের তোলা অভিযোগের ভিত্তিতে অবশ্যই আইসিসি সম্পূর্ণ সচেতনার সঙ্গে বিষয়টা তদন্ত করে দেখবে। সে ক্ষেত্রে ওই প্রোগ্রামের (আল জাজিরার) বিষয়বস্তু গ্রহণ করা হতে পারে। কারণ, আইসিসি এ ধরনের অভিযোগগুলো খুব গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে থাকে।’

তারা আরও জানিয়েছে, ‘আমরা ইতিমধ্যেই একটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের হাতে যে স্বল্প পরিমাণে প্রমাণাধি এসেছে তার ভিত্তিতে সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে এই তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’

আইসিসি আল জাজিরার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, যেন খুব দ্রুত অভিযোগ সম্পর্কে সম্পূর্ণ প্রমানাধি তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যাতে অভিযোগের সম্পূর্ণ তদন্ত করা যায়।’