sentbe-top

ব্রিটেনে কঠোর অভিবাসন নীতির ফলে বিপাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

study-in-uk
ফাইল ছবি

উচ্চ শিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের পরই ব্রিটেনের নাম। প্রতি বছর ইউরোপের বাইরের দেশ থেকে যুক্তরাজ্যে পড়তে যান চার লাখের অধিক শিক্ষার্থী। ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপের পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকেও শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ যান ব্রিটেনে পড়াশুনা করতে।

কিন্তু বর্তমানে ব্রিটিশ সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতি উচ্চশিক্ষা নিয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীদের বেশ বিপাকে ফেলেছে। যেকারণে ব্রিটেনের মতো জায়গায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা পড়েছেন সবচেয়ে বেশি বিপদে। কারণ বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রিটেন সরকারের দেওয়া আবাসন নীতিতে যেসব সুযোগ-সুবিধা ছিলো তা এখন আর নেই বললেই চলে।

২০১০ সালে ‌টিয়ার ফোর’ ক্যাটাগরিতে স্টুডেন্টস ভিসা নিয়ে ব্রিটেনে পড়তে গিয়েছিলেন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু নানার সমস্যার আবর্তে বর্তমানে ঘুরপাক খাচ্ছে তাঁদের অনেকেই। কারণ এই সময়ের আগে বিদেশি শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই খণ্ডকালীন চাকরি করে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে পারতো।

তবে, ব্রিটিশ সরকার এসব নিয়ম-নীতি এখন এতোটাই কঠিন করেছে যে চাকরি তো দূরে থাক, ঠিকভাবে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও অনেকেই রয়েছেন সংশয়ে। ঘন ঘন পরিবর্তনশীল অভিবাসন নীতিমালার কারণে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হচ্ছে অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের মতো বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদেরও।

এছাড়া বেক্সিট থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়া, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সব ক্যাটাগরিতে স্কলারশীপের সুযোগ কমিয়ে দেওয়া এ অবস্থার অন্যতম কারণ বলে মনে শিক্ষার্থীরা।

বাংলাদেশের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত অবস্থায় স্কলারশীপ নিয়ে লন্ডন পাড়ি জমান জুনায়েদ আহসান। মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বর্তমানে যেসকল শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষার জন্য লন্ডনে এসেছেন তাঁরা অনেকটাই হতাশাগ্রস্থ।

পড়াশুনার পাশাপাশি লন্ডনে শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ আছে এবং নিজের ব্যয়ভার নিজেই বহন করতে পারবে এমন চিন্তা নিয়েই ব্রিটেনে এসেছিলেন অনেক শিক্ষার্থী। কিন্তু সে সুযোগ না পাওয়ায় আবাসন খরচ নিয়ে তাঁরা বেশ কঠিন অবস্থার মধ্যে রয়েছে। অনেকে কোনো উপায় না পেয়ে দেশে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, লন্ডনে শিক্ষার্থীদের ছোট ছোট সেক্টরে কাজ করার বেশ সুযোগ ছিলো আগে। কিন্তু সেসব সেক্টরে কাজ করার ক্ষেত্রে ব্রিটেন সরকার কড়াকড়ি আরোপ করেছে। যে কারণে কাজ থাকলেও বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগ নেই।

জুনায়েদ আহমেদের বরাত দিয়ে লন্ডনে অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আইনজীবী কাওছার আহম্মেদ জানান, ‘অনেকগুলো কেস লড়তে লড়তে দেখা যায় উচ্চ শিক্ষা দূরে থাক ইমিগ্রেশন নিয়ে আগে লড়তে হয়।’ যুক্তরাজ্যের হোম অফিসও শিক্ষার্থীদের এমন দ্বি-মুখী অাচারণের ফলে ভিসা বাতিল করে দিচ্ছেন।’

sentbe-top