sentbe-top

এক সপ্তাহ না যেতেই ভেঙে গেল আকাশবীণার দরজা

akash-bima-doorউদ্বোধনের পর এক সপ্তাহ পার না যেতেই বিমানের ড্রিমলাইনার আকাশবীণার র‌্যাফট (দরজার অংশবিশেষ) ভেঙে গেছে। মঙ্গলবার সকালের এ ঘটনায় ঢাকা-সিঙ্গাপুর ফ্লাইট দেড় ঘণ্টা বিলম্বে ছাড়ে।

অদক্ষ প্রকৌশলী দিয়ে কাজ করানোয় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেই সাথে বিমানের প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমানকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

বিমানের প্রকৌশল শাখার পরিচালক সাজ্জাদুর রহমান বলেন, ‘তদন্তে এই ঘটনার সঙ্গে যাদের নাম জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া যাবে তাদের সকলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে’।

এদিকে, বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্যাপ্টেন মোসাদ্দিক আহমেদের বরাতে জানা গেছে দরজার ভেঙে যাওয়া অংশটি লন্ডন থেকে ৩ দিনের মধ্যে এনে সেটি সংযুক্ত করার প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

ঘটনার সময় উপস্থিত প্রকৌশল বিভাগের কর্মীদের একজন বলেন, ‘সকাল সাড়ে ৮টায় ড্রিমলাইনার দিয়ে সিঙ্গাপুর ফ্লাইট করার প্রস্তুতি চলছিল। এটি বোর্ডিং ব্রিজে সংয্ক্তু অবস্থায় বিএফসিসি থেকে যাত্রীদের জন্য ড্রিমলাইনারে খাবার তোলা হচিছল। এ সময় প্রকৌশল বিভাগের স্টাফ মোস্তাফিজুর রহমান হঠাৎ সজোরে দরজা অন করতে গিয়ে অন্য এ বাটনে চাপ পড়ে। এতে খুলে পড়ে রাফট নামে দরজার একটি অংশ। তাৎক্ষনিক তারা এই ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য ম্যানুয়ালি জোড়াতালি দিয়ে লাগানোর চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হওয়ায় বিষয়টি মুহুর্তেই রটে যায়’।

খুলে পড়া অংশটি প্রকৌশল বিভাগে নিয়ে যাওয়ার পর তারা সিঙ্গাপুরে ফ্লাইট বিলম্বে হলেও অপারেট করার সিদ্ধান্ত দেন। এসময়, দেখতে কিছুটা দৃষ্টিকটু লাগলেও নিরাপত্তা হুমকি নেই বলে বিমানের প্রকৌশল বিভাগ থেকে নিশ্চিত করা হয়। তবে বিমানটিতে ভ্রমন করতে আসা যাত্রীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করতে দেখা যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘ব্যপারটি সন্দেহজনক। এই ঘটনার জন্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এবং বিমানটি ক্রয়ের সাথে যুক্ত থাকা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জবাবদিহীর আওতায় আনা উচিৎ’।

sentbe-adএর আগে, গত ৫ সেপ্টেম্বর উদ্বোধন করা হয় বোয়িং-৭৮৭ ড্রিমলাইনার, যার নাম দেওয়া হয় আকাশবীণা। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স বলছে, এটিই সর্বাধুনিক প্রযুক্তি সংবলিত উড়োজাহাজ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেন। ওই দিনই সন্ধ্যায় ছিল আকাশবীণার প্রথম ফ্লাইট, গন্তব্য ছিল মালয়েশিয়া।

বহুল কাঙ্ক্ষিত বোয়িং ড্রিমলাইনার ৭৮৭ ‘আকাশবীণা’ দেশে আনা হয় গত ১৯ আগস্ট। ওই দিন বিকেল ৫টা ১৯ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে উড়োজাহাজটি। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের বোয়িং কার্যালয় থেকে রওয়ানা হয়ে এদিন বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ল্যান্ড করে ড্রিমলাইনারটি। এ নিয়ে বিমানের বহরে উড়োজাহজের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫টিতে।

টানা ১৬ ঘণ্টা উড়তে সক্ষম এই ড্রিমলাইনার চালাতে অন্যান্য বিমানের তুলনায় ২০ শতাংশ কম জ্বালানি লাগবে। এটি ঘণ্টায় ৬৫০ মাইল বেগে উড়তে সক্ষম। কম্পোজিট ম্যাটেরিয়াল দিয়ে তৈরি হওয়ায় এই বিমান ওজনে হালকা। ভূমি থেকে বিমানটির উচ্চতা ৫৬ ফুট। দু’টি পাখার আয়তন ১৯৭ ফুট।

আকাশবীণায় আসন সংখ্যা ২৭১টি। এর মধ্যে বিজনেস ক্লাস ২৪টি আর ২৪৭টি ইকোনমি ক্লাস। ড্রিমলাইনারের ইন ফ্লাইট এন্টারটেইনমেন্ট (আইএফই) সেবা দিতে প্যানাসনিক এভিওনিকস করপোরেশনের সঙ্গে চুক্তি করেছে বিমান। প্রতিটি আসনের সামনে প্যানাসনিকের এলইডি এস-মনিটর রয়েছে। মনিটরে বিবিসি, সিএনএনসহ ৯টি টিভি চ্যানেল দেখা যাবে।

sentbe-top