sentbe-top

ভোল পাল্টাচ্ছেন এরশাদ!

ershad
জাতীয় পার্টি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পত্র বিলি শুরু করেছে গত রোববার। জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের জন্যই মনোনয়ন পত্র বিক্রি করছে তারা। অথচ আগে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান লে. জে. (অব.) হু. মু. এরশাদ বলেছিলেন, নির্বাচনে যদি বিএনপি অংশগ্রহণ না করে তাহলেই কেবল তারা এককভাবে নির্বাচন করবেন। আর যদি বিএনপি নির্বাচনে আসে তাহলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের সঙ্গে নির্বাচন করবেন। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, ভোল পাল্টে ফেলেছেন এরশাদ।

নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশের একাধিক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপে বসেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় গত ৫ নভেম্বর এরশাদ ৩৩ জনের একটি দল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। গণভবনে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে জাতীয় পার্টি ইঙ্গিত দিয়েছিল, আগামী নির্বাচনের জন্য তারা ৩০ থেকে ৩৩টি আসন চায়। জাতীয় পার্টির দাবি মাথায় রেখে এরপর ৫০ থেকে ৭০টি আসন শরিকদের জন্য বরাদ্দ রেখে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নের একটি ছক এঁকে ফেলেছিল আওয়ামী লীগ। কিন্তু যে মুহূর্তে বিএনপি নির্বাচনে আসার ঘোষণা দিল সে মুহূর্তেই দেখা গেল পাল্টে গেছে এরশাদের জাতীয় পার্টি।

জাতীয় পার্টির কো চেয়ারম্যান জি. এম. কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগের কাছ থেকে তারা ১০০টি আসন প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু রাজনীতি সচেতন সকলেই জানেন, জাতীয় নির্বাচনে শরিকদের জন্য ১০০টি আসন ছেড়ে দেওয়া আওয়ামী লীগের মতো বড় একটি রাজনৈতিক দলের জন্য অবাস্তব ও অকল্পনীয় একটি বিষয়। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আসন সমঝোতার আগে প্রার্থী তালিকা জমা দিতে। এটাও বলা হয়েছে, জিতে আসার মতো প্রার্থী হলে অবশ্যই তাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে।

আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা ইতিমধ্যে নিজের দল, ১৪ দল ও মহাজোটগতভাবে ছয়টি জরিপ করিয়েছেন। ওই জরিপের ভিত্তিতেই জিতে আসার মতো প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সে হিসেবে বর্তমান সংসদে থাকা জাতীয় পার্টির বেশ কিছু এমপির জয়লাভ করা প্রবলভাবে ঝুঁকিতে রয়েছে। জাতীয় পার্টির বর্তমান এমপিদের বাইরে দলে তরুণ বা নবাগত জনপ্রিয় অন্য প্রার্থী নেই। সে হিসেবে আসন সমঝোতা বৈঠকে জয়-পরাজয়ের কথা উঠলে জাতীয় পার্টির প্রার্থীসংখ্যা আরো কমে যেতে পারে। এমন সংবাদ জাপায় প্রচার হওয়ার পর দলের একটি অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে।

সূত্র বলছে, জাতীয় পার্টির অনেকে ইতিমধ্যে বিএনপির একজন বড় নেতা যিনি একসময় জাতীয় পার্টিরও বড় নেতা ছিলেন তার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। অপরদিকে বিএনপির পক্ষ থেকেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। বিএনপির এই নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ। তিনি এক সময় জাতীয় পার্টির নেতা ছিলেন এবং স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের পতনের সময় দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে সুযোগসন্ধানী এরশাদের এই নতুন অবস্থান রাজনীতির ময়দানে নতুন সমীকরণের সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সৌজন্যে- বাংলাদেশ জার্নাল

sentbe-top