ট্যাক্সি চালিয়ে দুটি স্কুল গড়লেন জালালুদ্দিন

jalaluddinঅভাব তাকে স্কুলছাড়া করেছিল। তাই তিনি চাননি, কোনো শিশুকে শিক্ষার আলো থেকে দূরে থাকুক। গাজী জালালুদ্দিন। ট্যাক্সি চালিয়ে গড়েছেন স্কুল। আরও এগিয়ে যেতে চান। সেই পথ চলায় এবার পাশে দাঁড়াল ভারতের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি’ টিম।

আধো আধো গলায় প্রবল দারিদ্র্য জালালুদ্দিন বলত, আমি ডাক্তার হতে চাই। ক্লাসের ফার্স্ট বয়। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় তার। স্বপ্ন রয়ে যায় অধরা। ক্ষুধার রাজ্যে গদ্যময় পৃথিবীটা এরপর সুন্দরবন থেকে কলকাতার ফুটপথে। শিশু জালালুদ্দিনের ভিক্ষা করে। কোনো মতে জোটে এক বেলার খাবার। কৈশোর টানত রিকশা। গাজী জালালুদ্দিন নামটা হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।

কলকাতার এন্টালি মার্কেটে হাঁক দিয়ে ডেকে যেত কেউ, এই রিকশা। ফুটপথ ছেড়ে ফুলবাগানের পুরনো বাড়ির সিঁড়ির তলায় তখন সংসার। ভাড়া তেরো টাকা। হাল ছাড়েননি। ট্যাক্সি চালানো শেখেন। তখন নতুন স্বপ্ন দেখা শুরু। ট্যাক্সি চালিয়ে জমা করা টাকায় একটি স্কুল গড়ে তোলেন জালালুদ্দিন। আকারে বড় হয়ে এখন স্কুল দুটি। আর অনাথ আশ্রম একটি। এই অনন্য সাধারণ মানুষটিকে অনন্য সম্মানে ভূষিত করলো কৌন বানেগা ক্রোড়পতি। কিছুদিন আগে তার কাছে ডাক আসে কৌন বানেগা ক্রোড়পতি থেকে।

সেখানে হট সিটে তার পাশে বলিউড সুপারস্টার আমির খান। আর সামনে বিগ বি অমিতাভ বচ্চন। হাতে স্টিয়ারিং। চাকাটা এখনও ঘোরে। দিন শেষ হয়ে রাত আসে। শরীরে ক্লান্তি জড়িয়ে আসে। তবু থামেন না জালালুদ্দিন। চোখে যে এখনও স্বপ্ন। এবার একটা কলেজ গড়তে চান তিনি।

কলকাতা শহরে অতি পরিচিত তার ট্যাক্সি, যার গায়ে লেখা ‘সাহায্যের আবেদন।’ তবে নিজের জন্য নয়, গত ২০ বছর ধরে সুন্দরবন অঞ্চলে একটি অনাথ আশ্রম ও দুটি অবৈতনিক স্কুল চালান জালালুদ্দিন, তার খরচ জোগান দেয়ার জন্যই এ আবেদন। জিনিউজ।