ইপিএস কর্মী এবং কোরিয়ান নিয়োগকর্তাদের সম্মাননা প্রদান করলো দূতাবাস

honourবাংলাদেশ দূতাবাস সিউল আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস উপলক্ষে পাঁচটি ক্যাটাগরিতে ১৩ জন বাংলাদেশী ইপিএস কর্মী এবং ৫ জন কোরিয়ান নিয়োগকর্তাকে সম্মাননা প্রদান করেন। ২৩ ডিসেম্বর এই সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে এইচ. আর. ডি. কোরিয়া, কমওয়েল-এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, বিভিন্ন দূতাবাসের লেবার অ্যাটাশে, বাংলাদেশী ইপিএস কর্মী এবং প্রবাসী বাংলাদেশীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশী পাঁচজন ইপিএস কর্মী কর্তৃক সমবেত কন্ঠে বাংলাদেশ ও কোরিয়ার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় পর্বের এই অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। এরপর সূচনা বক্তব্যে দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মকিমা বেগম দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে আলোকপাত করেন। এরপর বক্তব্য প্রদান করেন মি: কিম হিয়স সং, প্রতিনিধি, হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট অব কোরিয়া। “হ্যাপি রিটার্ন” প্রোগামের উপর এইচ. আর. ডি. কোরিয়ার একটি উপস্থাপনা প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, দিবসটির প্র্রথম পর্ব ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে উদযাপিত হয়।

abidaঅনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম। তিনি সম্মাননাপ্রাপ্ত বাংলাদেশী ইপিএস কর্মীদের অভিনন্দন জানান এবং বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কাজে তাদের সংশ্লিষ্টতার ভূয়সী প্রশংসা করেন। রাষ্ট্রদূত আবিদা ইসলাম আরো বলেন, ২০১৬ সালে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ দায়িত্বশীল, নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের জন্য “গ্লোবাল কমপ্যাক্ট” এর ধারণাটি বিশ্বসম্প্রদায়ের নিকট উপস্থাপন করেন। দুই বছর পর্যালোচনার পর ২০১৮ সালের ১৯ ডিসেম্বর এটি জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রবাসী কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অভিবাসনের গুরুত্ব বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ বিষয়টিকে অন্তর্ভূক্ত করেছে। মান্যবর রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে দক্ষিণ কোরিয়ায় কর্মরত দশ হাজার বাংলাদেশী ইপিএস কর্মীর কর্মনিষ্ঠা, আনুগত্য এবং তাদের সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন।

সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশী ইপিএস কর্মী নিয়োগের জন্য পাঁচজন কোরিয়ান নিয়োগকর্তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বৈধ উপায়ে সর্ব্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রেরণ, একই কর্মস্থলে দীর্ঘদিন অবস্থান, ভিসা ক্যাট্যাগরি পরিবর্তন এবং কোরিয়ান সরকার কর্তৃক সম্মাননা প্রাপ্তির জন্য আঠারো জন বাংলাদেশী ইপিএস কর্মীকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।

honourউক্ত অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন দূতাবাসের কাউন্সিলর( বাণিজ্যিক) জনাব মোহাম্মদ মাসুদ রানা চৌধুরী এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দূতালয় প্রধান জনাব রুহুল আমিন। বাংলাদেশ দুতাবাস কর্তৃক আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি কোরিয়ায় অবস্থানরত সকল ইপিএস কর্মীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছে।

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে বাংলাদেশের স্বনামধন্য অভিনয় শিল্পী মোমেনা চৌধুরী অভিনীত মুক্তিযুদ্ধ ও যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের এক বীরঙ্গনার সংগ্রামী জীবনের নাট্য প্রকাশ “লাল জমিন” মঞ্চস্থ হয়। অভিনয় শিল্পী মোমেনা চৌধুরীর অনবদ্য অভিনয় দর্শকদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে একটি ভিন্ন মাত্রায় সঞ্চারিত করেছে।