বুধবার । মার্চ ২৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ৯:৫৪ অপরাহ্ন
শেয়ার

জাতীয় নির্বাচনে ‘মব’ নিয়ন্ত্রণে আশাবাদী সিইসি


CEC প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেছেন, জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের নির্বাচন একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। তখন প্রতিটি এলাকায় আলাদা আলাদা প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, ফলে যারা ‘মব’ সৃষ্টি করেন, তারা নিজ নিজ এলাকায় ছড়িয়ে যাবেন। এ অবস্থায় কোনো পক্ষ একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক লোক জড়ো করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারবে না।

সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ট্র্যাসি এন জ্যাকবসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান সিইসি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানতে চাওয়া হয়েছিল নির্বাচনের প্রস্তুতি কতটুকু। জবাবে কমিশন জানিয়ে দিয়েছে- আগস্টের প্রথম সপ্তাহে প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে নির্বাচনী চিঠি পাওয়ার পর থেকেই জোরদার প্রস্তুতি চলছে। এর আগেই বড় বড় কাজগুলো শুরু হয়েছিল, যেন কোনো ঘাটতি না থাকে। নির্বাচন কমিশনকে দোষারোপ করার সুযোগ কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে।

সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, অতীতে কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এবার এমন কোনো পরিস্থিতি হবে না। সরকার যখন চাইবে, কমিশন নির্বাচন আয়োজন করতে প্রস্তুত।

তিনি আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র জানতে চেয়েছিল। কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে—আগের মতো এবারও শেষ পর্যন্ত দলগুলো জাতীয় স্বার্থে সমঝোতায় পৌঁছাবে। প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করেছেন, যা ইতিবাচক দিক। এখন পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা চাপ কমিশন অনুভব করেনি বলেও তিনি রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেছেন।

গুজব প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, “এই দেশ গুজবের দেশ। এখানে গুজব তৈরির জন্য আলাদা ‘ইন্ডাস্ট্রি’ গড়ে উঠেছে। এসবের পেছনে কান দেওয়া ঠিক নয়।” একইসঙ্গে কমিশনের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলোর কথাও রাষ্ট্রদূতকে জানানো হয়েছে।

কালোটাকার ব্যবহার রোধে কমিশন আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছে বলে জানান তিনি। তবে সম্পূর্ণ বন্ধ করা কঠিন হবে। এ ছাড়া এবারের নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটগ্রহণে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যা আগে কখনো হয়নি।

সাম্প্রতিক কমিশনের একটি শুনানিতে গোলযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই ঘটনায় জিডি করা হয়েছে, পুলিশকে অপরাধীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

সবশেষে সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, “সব মিলিয়ে আমরা একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছি।”