
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা ৪৮ মিনিট থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত এ বৈঠক চলে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সচিবের কার্যালয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয় বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।
গত শনিবার এক সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশ সফরে আসেন সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাস। ঢাকা থেকে এক দিনের সফরে গতকাল (বুধবার) কক্সবাজারে গিয়ে রাতে ঢাকায় ফেরেন হাস।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে রক্তক্ষয়ী গণবিক্ষোভের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা ছাত্রদের নিয়ে গঠিত হয় নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বছরপূর্তির বিশেষ দিন গত ৫ আগস্ট এনসিপির পাঁচ শীর্ষস্থানীয় নেতা হঠাৎ কক্সবাজারে যান। সেখানে হোটেল সি পার্লে তারা সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে গোপন বৈঠক করছেন বলে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে।
বলা হয়, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা অংশ নেন ওই বৈঠকে। সঙ্গে তাসনিম জারার স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহ ও সারজিস আলমের স্ত্রী ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়। এ নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। অবশ্য ওয়াশিংটনের একটি সূত্র সে সময় গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে যে, পিটার হাস বাংলাদেশে নন, বরং ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন।
গত বছরের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের মাত্র কয়েকদিন আগে তিনি বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালন শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে ২৭ সেপ্টেম্বর দেশটির ফরেন সার্ভিস থেকে অবসর নেন। এর মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে ১ অক্টোবর যোগ দেন এক্সিলারেট এনার্জিতে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানির মার্কিন এই বহুজাতিক কোম্পানির বিনিয়োগ রয়েছে বাংলাদেশে। কোম্পানিটি কক্সবাজারের মহেশখালীতে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল পরিচালনা করে।
গত ৫ আগস্ট কক্সবাজারে এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠকের গুঞ্জনে ফের আলোচনায় আসেন পিটার হাস। যদিও তখন তিনি অবস্থান করছিলেন ওয়াশিংটনে।



































