
ফাইল ছবি- সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করা আরও এক দল বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে একটি চার্টার্ড ফ্লাইটে তাদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ফেরত আসা নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ৩৫ জন, তবে সংখ্যাটি কিছুটা কম-বেশিও হতে পারে। বিষয়টি ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের বিশেষ শাখাকে (এসবি) জানানো হয়েছে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অবৈধ অভিবাসীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়। ভারত, ব্রাজিলসহ অনেক দেশের নাগরিকদের হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে ফেরত পাঠানোয় মানবাধিকার কর্মীদের সমালোচনা ওঠে।
বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে শুরুর দিকে মানবাধিকার রক্ষার বিষয়টি মানা হলেও পরবর্তীতে এর ব্যতিক্রম ঘটে। গত ২ আগস্ট একটি সামরিক উড়োজাহাজে ৩৯ জন বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল, যাদের মধ্যে একজন নারীও ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ৬০ ঘণ্টার যাত্রায় হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে রাখা হয় তাদের। কেউ কেউ অসুস্থ হয়ে পড়েন, ঢাকায় পৌঁছে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সূত্র জানায়, এতদিনে বিভিন্ন ধাপে ১৫৭ জন বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এবার আরও ৩৫ জন আসলে মোট সংখ্যা দাঁড়াবে ১৯২ জনে।
ইমিগ্রেশন পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ফেরত আসা প্রত্যেকের পরিচয় যাচাই করে গ্রহণ করা হবে। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী তাদের থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করা হয়। অনেকেই হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে ফেরত আসায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন, তাই অনেক ক্ষেত্রে কাউন্সেলিংয়ের প্রয়োজন হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি সরকারি দপ্তর অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়টি তদারক করে থাকে। দপ্তরগুলো হলো অফিস অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি, ইউএস কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান বলেন, “হাতকড়া ও শিকল পরিয়ে ফেরত পাঠানো অত্যন্ত অমানবিক। আমরা চাই, যাতে এ ধরনের অমানবিক প্রক্রিয়া বন্ধ হয়। আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের অনুরোধ বিবেচনা করবে।”



































