রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক খেলা ৫ জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

মোস্তাফিজের শেষ ওভারের জাদুতে রংপুরের শ্বাসরুদ্ধকর জয়


mustafiz

শেষ ওভারে অবিশ্বাস্য বোলিং করে রংপুরকে জয় এনে দিলেন মুস্তাফিজ।

বিপিএলের দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে ঢাকা ক্যাপিটালসকে ৫ রানে হারিয়েছে রংপুর রাইডার্স। জয়ের জন্য শেষ ওভারে ঢাকার প্রয়োজন ছিল ১০ রান, তবে মোস্তাফিজুর রহমানের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে আসে মাত্র ৪ রান। শেষ পর্যন্ত নাটকীয় জয়ে মাঠ ছাড়ে রংপুর।

১৫৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫০ রান সংগ্রহ করে ঢাকা ক্যাপিটালস। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুনের লড়াকু হাফ সেঞ্চুরিও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেনি।

ইনিংসের শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ। তিনি ২২ বলে ৩১ রান করে কাইল মেয়ার্সের বলে তাওহীদ হৃদয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। এরপর আব্দুল্লাহ আল মামুন ১৮ বলে ২০ রান করে খুশদিল শাহর বলে আউট হলে চাপে পড়ে ঢাকা।

মাঝের ওভারে রান তোলার গতি কিছুটা কমে যায়। সাইফ হাসান ২৪ বলে ১৫ রান করে অ্যালিস আল ইসলামের শিকার হন। একপ্রান্তে উইকেট পড়লেও অন্যপ্রান্তে একাই লড়াই চালিয়ে যান অধিনায়ক মিঠুন।

অধিনায়কোচিত ইনিংস খেলেন মিঠুন। ৩৮ বলে অপরাজিত ৫৬ রান করেন তিনি, যেখানে ছিল ৬টি চার ও ১টি ছক্কা। শেষদিকে শামীম হোসেন ১০ বলে ১১ রান করে মোস্তাফিজের বলে আউট হন। শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় রান তুলতে ব্যর্থ হওয়ায় ম্যাচ রংপুরের দিকেই ঝুঁকে যায়।

শেষ পর্যন্ত সাব্বির রহমান ৮ বলে ১২ রান করে অপরাজিত থাকলেও দলের হার এড়ানো সম্ভব হয়নি। অতিরিক্ত থেকে আসে ৫ রান।

বল হাতে রংপুরের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন কাইল মেয়ার্স, অ্যালিস আল ইসলাম ও মোস্তাফিজুর রহমান, যারা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের ভিত গড়ে দেন।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে রংপুর রাইডার্সের শুরুটা ভালো হয়নি। ওপেনার কাইল মেয়ার্স ১১ রান করে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে কিপার মিঠুনের হাতে ক্যাচ দেন। অন্য ওপেনার লিটন দাসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি, ৬ রান করে জিয়াউর রহমানের বলে ইমাদ ওয়াসিমের হাতে ধরা পড়েন।

দুই ওপেনার দ্রুত ফিরে যাওয়ার পর ইনিংস গড়ার দায়িত্ব নেন ডেভিড মালান। ইংলিশ ব্যাটার ৩৩ বলে ৩৩ রান করে দলের রান এগিয়ে নেন। তবে তাকে সঙ্গ দিতে এসে তাওহীদ হৃদয় রানের খাতা খুলতে না পেরে জিয়াউর রহমানের বলে মিঠুনের গ্লাভসে বন্দি হন।

এরপর ইনিংসে গতি আনেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও খুশদিল শাহ। মাহমুদউল্লাহ ৪১ বলে ৫১ রান করেন, যেখানে ছিল ৭টি চার। শেষ দিকে খুশদিল শাহ খেলেন ২১ বলে ৩৮ রানের ঝড়ো ইনিংস, হাঁকান ৪টি চার ও ২টি ছক্কা।

অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ৭ বলে ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। অতিরিক্ত থেকে আসে ৯ রান। সব মিলিয়ে ২০ ওভারে রংপুর রাইডার্সের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৫৫ রান, যা শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য যথেষ্ট প্রমাণিত হয়।