রবিবার । মার্চ ১৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক লাইফস্টাইল ৮ জানুয়ারি ২০২৬, ৫:৪৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

১৮৪ দেশ জয়ী নাজমুনের চোখে ভেনেজুয়েলা


nazmoon

বিশ্ব রাজনীতি এখন উত্তাল ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত নিয়ে। মার্কিন অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় যখন গোটা বিশ্বে আলোচনার ঝড়, ঠিক তখনই আলোচনায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের গর্ব নাজমুন নাহারের অভিজ্ঞতা। সংকটের কিছুদিন আগেই ভেনেজুয়েলার ১৭টি শহর ঘুরে আসা এই পরিব্রাজক তুলে ধরেছেন সেখানকার সাধারণ মানুষের ভেতরের কথা।

নাজমুন বলেন, “মাদুরোর শাসনে সাধারণ মানুষ বিরক্ত ছিল সত্য কিন্তু অন্য কোনো দেশের সামরিক আগ্রাসন তারা মেনে নিতে পারছে না। সেখানকার মানুষদের সাথে আমার নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে। তারা সাফ বলছে, আমাদের সরকার আমাদের পছন্দ না হতে পারে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার একান্তই আমাদের।” 

দীর্ঘ এক মাসের ভেনেজুয়েলা সফরে সাধারণ মানুষের সাথে যে আন্তরিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তা থেকেই নাজমুন বুঝেছেন, ভেনেজুয়েলার মানুষ পরিবর্তন চায়, কিন্তু যুদ্ধ বা বিদেশি শক্তির অবৈধ হস্তক্ষেপ নয়। তাদের চাওয়া ‘স্বাধীন সিদ্ধান্ত’, কোনো চাপিয়ে দেওয়া ‘আগ্রাসন’ নয়।

ভেনেজুয়েলা সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই নাজমুন নাহার গড়েছেন এক বিরল ইতিহাস। ১৮৪তম দেশ হিসেবে বাহামা ভ্রমণের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের প্রতিটি দেশ ভ্রমণের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা প্রথম মুসলিম নারী এবং প্রথম বাংলাদেশি অভিযাত্রী। তার এই অসামান্য অর্জনে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন খোদ বাহামার ফার্স্ট লেডি প্যাট্রিসিয়া মিনিস।

nazmoon

২০২৫ সালের শেষার্ধে সামোয়া, তিমুর লেস্তে থেকে শুরু করে ভেনেজুয়েলা ও বাহামা পর্যন্ত নাজমুনের এই যাত্রা শুধু ভ্রমণ নয় বরং বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং। ভেনেজুয়েলার ‘লা নাসিওন’ থেকে শুরু করে ক্যারিবীয় ‘ডব্লিউ আইসি নিউজ’ সর্বত্রই এখন বাংলাদেশের এই মেয়ের জয়জয়কার। প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি প্রচার করছেন ‘নো ওয়ার, অনলি পিস’ এবং ‘সেইভ দ্য প্ল্যানেট’-এর মতো মানবিক বার্তা। 

লক্ষ্মীপুরের মেয়ে নাজমুন নাহারের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০০ সালে। সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার নামকরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি নিলেও তার নেশা ছিল বিশ্বভ্রমণ। অসংখ্যবার মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এই সলো ট্রাভেলার আজ ৫৬টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত।

লাল-সবুজের পতাকা কাঁধে নিয়ে নাজমুন নাহার আজ কেবল একজন পরিব্রাজক নন, তিনি হয়ে উঠেছেন শান্তি আর সাহসের এক জীবন্ত বিজ্ঞাপন।