শনিবার । মার্চ ২১, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক কোটার অপব্যবহার: চক্রের মূলহোতাসহ আটক ৯


malaysia-arrest

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক কোটার অপব্যবহার ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা ‘বাদুল’সহ নয়জনকে আটক করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন বিভাগ। আটকের মধ্যে আটজন বাংলাদেশি পুরুষ এবং একজন ইন্দোনেশীয় নারী রয়েছেন।

ইমিগ্রেশন বিভাগের অভিযানে গত ৪ ফেব্রুয়ারি কুয়ালালামপুরের জালান দেশা পানদান এলাকার একটি দোকানঘরের দ্বিতীয় তলায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এনফোর্সমেন্ট বিভাগের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে চালানো অভিযানে ২৬ থেকে ৬১ বছর বয়সী মোট নয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে সহায়তার জন্য ওই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত দুইজন স্থানীয় নাগরিককে সাক্ষী হিসেবে সমন জারি করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিটি নিজেদের ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত বিদেশি শ্রমিক কোটাকে অবৈধভাবে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি, হস্তান্তর ও সরবরাহ করছিল। প্রতিটি আবেদনের বিপরীতে ৩ হাজার থেকে ৮ হাজার রিঙ্গিত পর্যন্ত ফি আদায় করা হতো। ধারণা করা হচ্ছে, এই অবৈধ কার্যক্রম থেকে সিন্ডিকেটটি বছরে প্রায় ১০ লাখ রিঙ্গিত পর্যন্ত লাভ করত।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে সিন্ডিকেটটি বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ভুয়া ছুটির চিঠি প্রস্তুত করত। অভিযানে ধরা পড়লে নির্দিষ্ট অর্থের বিনিময়ে শ্রমিকদের মুক্তির ব্যবস্থাও করত তারা। এছাড়া, কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়া পাস ও ভিসা নবায়নের মধ্যস্থতাকারী হিসেবেও কাজ করছিল এই চক্র।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, সিন্ডিকেটটি সমগ্র মালয়েশিয়াজুড়ে অনুমোদনহীনভাবে বিদেশি শ্রমিক সরবরাহে সক্রিয় ছিল। এটি দেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার একটি পরিকল্পিত অপব্যবহার—যা একদিকে বিদেশি শ্রমিকদের শোষণ করছে, অন্যদিকে জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।

অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে—ইন্দোনেশিয়ার ২২টি, বাংলাদেশের ২০টি, পাকিস্তানের ৫টি এবং ভারতের ১টি পাসপোর্ট। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে ৪৯৭টি বিদেশি শ্রমিকের আই-কার্ড, ৩৮টি সিআইডিবি কার্ড, ১৩,০০০ রিঙ্গিত নগদ অর্থ এবং বিদেশি শ্রমিকদের অবৈধ প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন নথি ও সরঞ্জাম।

আটক সব বিদেশি নাগরিককে পরবর্তী তদন্তের জন্য পুত্রাজায়া ইমিগ্রেশন ডিপোতে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ এবং ইমিগ্রেশন বিধিমালা ১৯৬৩ অনুযায়ী তদন্ত চলছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগ আরও স্পষ্ট করেছে, বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশিদের আশ্রয় দেওয়া, নিয়োগ করা বা তাদের সঙ্গে জড়িত থাকা যে কাউকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মালয়েশিয়া জুড়ে আইন প্রয়োগমূলক অভিযান জোরদার রাখার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে বিভাগটি।