শুক্রবার । মে ৮, ২০২৬
প্রবাস ডেস্ক প্রবাস ৮ মে ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

মালয়েশিয়ায় কুমিল্লার রবিনের রহস্যজনক মৃত্যু, ময়লার ড্রাম্পারে মিলল লাশ


robin

নিহত রবিউল হাসান রবিন। সংগৃহীত ছবি

পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন কুমিল্লার তিতাস উপজেলার রবিউল হাসান রবিন (৩৮)। কিন্তু তিন বছরের কঠোর পরিশ্রম শেষে তাঁর সেই স্বপ্ন এখন কফিনে বন্দি। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে কর্মস্থল থেকে নিখোঁজের একদিন পর একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে রবিনের নিথর দেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় পুলিশ। নিহত রবিন উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের কালাইগোবিন্দপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (৪ মে) সকালে কুয়ালালামপুরের বুকিত জলিল এলাকায় একটি চীনা নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হন রবিন। পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে থাকা একটি ময়লার ড্রাম্পার থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বর্তমানে তাঁর মরদেহ মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে।

রবিনের পরিবারের অভিযোগ, এটি কোনো সাধারণ মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। নিহতের শ্বশুর মো. রশিদ মিয়া জানান, মাত্র ১৫ দিন আগে রবিন শ্রমিকদের বেতনের হিসাব রাখার দায়িত্ব পান। এরপর থেকেই কিছু সহকর্মীর সঙ্গে তাঁর বিরোধ তৈরি হয়। সেই প্রতিহিংসা থেকেই তাঁকে হত্যা করে ময়লার ড্রাম্পারে ফেলে রাখা হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।

নিহতের বড় ভাই খোকন, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে রবিন মালয়েশিয়ায় যান। প্রথমে শাহআলম এলাকায় কাজ করলেও মাত্র ১৫ দিন আগে বুকিত জলিলে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেন। তার অভিযোগ. ঘটনার দিন জালাল ও সেন্টু নামের দুই ব্যক্তি ফোনে রবিনের নিখোঁজ হওয়ার খবর দেয়। কিন্তু তাঁদের কথায় নানা অসংগতি পাওয়ায় শুরু থেকেই হত্যার সন্দেহ জোরালো হয়।

একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পুরো পরিবার। রবিনের ১৫ বছরের ছেলে মিহাদ, ৫ বছরের মেয়ে রাইসা এবং মাত্র ২ বছরের ছোট ছেলে রোহানের ভবিষ্যৎ এখন অন্ধকার। স্বামীর শোক সইতে না পেরে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী ফেরদৌসী আক্তার। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “তিন সন্তানকে নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? আমার স্বামীকে যারা হত্যা করেছে আমি তাদের বিচার চাই।”

প্রিয়জনের নিথর দেহের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে পুরো গ্রাম। রবিনের পরিবার তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।