
ছবি: সংগৃহীত
বুকভরা স্বপ্ন আর দুচোখ ভরা আশা নিয়ে প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে সুদূর মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন লক্ষ্মীপুরের অরুণ। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে সব প্রস্তুতি ছিল নিজ দেশে ফেরার। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস, ফেরার সেই ট্রাভেল পারমিট হাতে পাওয়ার আগেই কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন প্রাঙ্গণেই থমকে গেল তার জীবনপ্রদীপ।
বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেলা ১১টার দিকে স্ত্রী মোসাম্মাৎ শাহানাজ শরীফকে সঙ্গে নিয়ে অরুণ হাইকমিশনে উপস্থিত হন। উদ্দেশ্য ছিল ট্রাভেল পারমিট সংগ্রহ করে দেশে ফেরার শেষ প্রস্তুতি নেওয়া। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তার করুণ অবস্থা দেখে হাইকমিশন কর্তৃপক্ষ মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুততার সাথে ট্রাভেল পারমিট ইস্যুর প্রক্রিয়া শুরু করে।
অরুণের হাতে হয়তো নিজ দেশে ফেরার বৈধ কাগজটি পৌঁছে যেত, কিন্তু তার আগেই কনস্যুলার সেবা এলাকায় তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হলেও লাভ হয়নি। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা প্যারামেডিক নার্স তাকে পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। যে কাগজটি তাকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে নিত, সেটি হাতে পাওয়ার আগেই নিভে গেল তার জীবনপ্রদীপ।

ময়নাতদন্তের মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, অরুণ সম্প্রতি ‘মাইল্ড স্ট্রোক’ করেছিলেন এবং দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ মাত্রার ডায়াবেটিসে ভুগছিলেন। প্রবাসের কঠোর পরিশ্রম, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং সময়মতো সুচিকিৎসার অভাব তার শরীরকে তিলে তিলে নিঃশেষ করে দিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অরুণ লক্ষ্মীপুর জেলার সদর উপজেলার চররোহিতা গ্রামের সোলেমান হায়দার ও ছালেহা বেগমের সন্তান। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশ হাইকমিশন মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে এবং মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর যাবতীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
অরুণ ফিরছেন ঠিকই, তবে হাসিমুখে প্রিয়জনদের কাছে ফিরে আসার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, তা আর পূরণ হলো না। প্রবাসের মাটিতে নিভে যাওয়া এই জীবন যেন প্রতিটি প্রবাসীর নিরব সংগ্রাম আর ত্যাগের এক করুণ প্রতিচ্ছবি।









































