
মো. আবুল হাশেম
পুলিশের চাকরিকে ব্যবসার সাথে তুলনা করে নেত্রকোনার কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল হাশেমের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ৪ মিনিট ৪ সেকেন্ডের এই অডিও রেকর্ডটি গতকাল শনিবার রাত আটটার পর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে আজ রোববার সকালে ওসি আবুল হাশেমকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও রেকর্ডে থানার পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে ওসি মো. আবুল হাশেমকে বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের চাকরি ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। আমরা কেউ কাউকে ঠকাব না। সবাই মিলেমিশে থাকব। ধরেন দুই হাজার টাকা আমি খরচ করলাম, এই টাকা তো আমার বাড়ির টাকা না, বেতনের টাকাও না। আপনারা একটা অভিযোগ দিলেন এক হাজার টাকা, আরেকটা খারিজ কইরা ফেললেন এক হাজার টাকা, ওইটা দিয়েই কিন্তু আমি পাড়ি দিয়া দিলাম। তাইলে আমার তো রিস্ক নাই, নো টেনশন, খুব রিলাক্সে আছি।’
রেকর্ডে তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘পুলিশের যে চাকরিটা, এটা ওয়ান কাইন্ড অব বিজনেস। সবাই কিন্তু এই বিজনেসের সাথে জড়িত না। আমরা কিন্তু একজন আরেকজনরে সেইফে রাখছি। সবাই সমন্বয় করে চলতে হবে। ওসির মাথায় কিন্তু কাঁঠাল ভেঙে খাইতে পারবেন না। সর্বোপরি আমি আপনাদের ঠকাব না, আমি কি বাড়ি থেকে টাকা এনে খরচ করতাছি, না জমি বেইচ্যা আইন্যা আপনাদের চালাইতেছি। সবাই যেন ভালো থাকতে পারি। যার যে–ই অধিকার, সে যেন সেটা পায়। আমার যারা কনস্টেবল আছে—তারা যেন যেটা পাওয়ার, সেটা পায়, তারা যেন বঞ্চিত না হয়। হক মারা আমি পছন্দ করি না। কারণ, যারা হক মারে, রাসুল তারে সাফায়েত করবে না। এটাই কিন্তু ফাইনাল কথা। কেউ চালাকি করবেন না। বর্তমান মিডিয়া অনেক এগিয়ে আছে।’
তবে এই অডিওর বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ওসি মো. আবুল হাশেম সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানিয়ে বলেন, ‘কীভাবে এই বক্তব্য এসেছে, আমি তো জানি না। এ রকম কথা তো আমি কোথাও বলিনি। এখন আপনি যেমন জানছেন, আমিও তেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারলাম। আমার তো মনে হয় না এমন কথা আমি কোথাও বলেছি।’
এদিকে অডিওটি জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসার সাথে সাথেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম আজ রোববার সকালে জানান, অডিওটি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ওসি আবুল হাশেমকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সাথে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওসির বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি নিজে যেহেতু কখনো কোনো রকম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন, তাই তার অধীনে কেউ এ রকম অসৎ চিন্তা করে পার পেয়ে যাবে, তা কখনো সম্ভব হবে না।











































