রবিবার । মে ৩১, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক দেশজুড়ে ৩১ মে ২০২৬, ১:৪৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

তিন মাসের জন্য সুন্দরবন বন্ধ, প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি


sundarban-

বর্ষাকাল সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন মৌসুম

জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষায় আগামী ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত টানা তিন মাস সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে বন বিভাগ। এ সময় বনজ সম্পদ আহরণ, মাছ ধরা এবং পর্যটনসহ কোনো কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি থাকবে না।

বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বর্ষাকাল সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ নদী ও খালে ডিম ছাড়ে, বন্যপ্রাণীর বংশবিস্তার ঘটে এবং নতুন গাছপালার জন্ম হয়। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও বনাঞ্চলকে স্বাভাবিক পরিবেশে রাখতে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞার সময় কোনো ধরনের প্রবেশপত্র বা পাস ইস্যু করা হবে না। কেউ নিয়ম অমান্য করে বনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

বন কর্মকর্তাদের মতে, মানুষের চলাচল এবং নৌযানের কারণে অনেক সময় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্র ব্যাহত হয়। কয়েক মাস বনাঞ্চলকে নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ দেওয়া গেলে মাছ, প্রাণী ও উদ্ভিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য আরও শক্তিশালী হবে।

তবে এই সিদ্ধান্তে সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, মৌয়াল ও বাওয়ালি পরিবারগুলো সাময়িকভাবে জীবিকা সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকার অনেক পরিবার বছরের এই সময়টায় বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজতে বাধ্য হয়।

স্থানীয় কাঁকড়া শিকারি জামাল হোসেন বলেন, তিন মাস বন বন্ধ থাকায় তাদের আয় প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সংসার চালাতে তখন নানা ধরনের আর্থিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

আরেক জেলে আনিসুর রহমান জানান, সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি না থাকলে অনেক জেলেকেই ঋণ নিয়ে পরিবার পরিচালনা করতে হয়। ফলে নিষেধাজ্ঞার সময়টি তাদের জন্য সবচেয়ে কঠিন হয়ে ওঠে।

এদিকে পর্যটন খাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পর্যটকবাহী ট্রলারের মাঝি রিপন গাজী বলেন, বন বন্ধ থাকলে পর্যটক না থাকায় নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকতে হয়।

বুড়িগোয়ালিনী বন স্টেশনের কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবন আবারও সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের পুরো সময়জুড়ে বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে নজরদারি চালাবে, যাতে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের লক্ষ্য সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।