
ছবি: সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল–আশুগঞ্জ–বিজয়নগরের দুই ইউনিয়ন) আসনে বেসরকারিভাবে ঘোষিত বিজয়ী প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে বেরিয়ে এসে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করা তার জন্য সহজ ছিল না। তার চেয়েও কঠিন সময় পার করেছেন তার নেতাকর্মীরা। দল যদি তাকে ফেরাতে চায়, তবে আগে বহিষ্কৃত নেতাকর্মীদের দলে ফিরিয়ে নিতে হবে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শাহবাজপুর, সরাইল উপজেলা এলাকায় নিজ বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, গত ১৭ বছরে নেতাকর্মীরা ত্যাগ ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে রাজনীতি করেছেন। অনেকে ঘরে থাকতে পারেননি, বহিষ্কারের শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, নিজে নির্বাচনে হেরে গেলে হয়তো পেশায় ফিরে যেতেন, কিন্তু তার কর্মীদের ভবিষ্যৎ কী হতো- এই প্রশ্ন থেকেই তিনি সবচেয়ে বেশি দায়বদ্ধতা অনুভব করেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলীয় প্রার্থী না হওয়ায় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে হলে কাজের কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যতে আবার ভোটে দাঁড়ালে জনগণের কাছে কাজই হবে তার একমাত্র ভরসা।
সংবাদ সম্মেলনে ভোটগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি। তার দাবি, দুপুরের পর কয়েকটি কেন্দ্রে ভোট কারচুপির চেষ্টা এবং ফলাফল বিলম্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রুমিন ফারহানা পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৪৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, বিএনপি জোটের প্রার্থী ও জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৪ ভোট।
উল্লেখ্য, রুমিন ফারহানা আগে বিএনপির নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন এবং একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপি থেকে সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও তার আসনটি জোট শরিক জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশকে ছেড়ে দেয় বিএনপি। পরে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।










































