রবিবার । মার্চ ২২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ঢাকা উত্তর–দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় ইসি


Election Commission

ফাইল ছবি

মেয়াদোত্তীর্ণ তিন সিটি করপোরেশনে নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের কার্যক্রম শুরু করতে চায় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে ইসির কাছে চিঠি পাঠিয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের বাকি ৯টি সিটি করপোরেশনসহ জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর মেয়র, চেয়ারম্যান ও কাউন্সিলরদের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ ও ৬৪টি জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে। বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন শাহাদাত হোসেন।

ইসি সূত্র আরও জানায়, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সে সময় ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন প্রস্তুতির জন্য ইসিকে চিঠি দেওয়া হয়। পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণে সংসদ নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সরকার সম্মতি দেয়নি।

আইন অনুযায়ী, কোনো সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২০ সালের ২ জুন, সে হিসাবে গত বছরের ১ জুন এ সিটির পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা হয়েছিল ২০২০ সালের ৩ জুন এবং এ সিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ২ জুন। অন্যদিকে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি, আইন অনুযায়ী এ সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি। এ কারণে এই তিন সিটিতে নির্বাচন আয়োজন সবচেয়ে জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মনে করছে ইসি।

ইসি সূত্র জানায়, চিঠি পাওয়ার পর দ্রুত ভোটার তালিকা হালনাগাদ, নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ, প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং নির্বাচনী কর্মকর্তা নিয়োগসহ সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হবে। সময় সীমিত হওয়ায় চট্টগ্রাম সিটির জন্য আলাদা জরুরি পরিকল্পনাও নেওয়া হতে পারে।

ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, নির্বাচন আয়োজনই কমিশনের মূল দায়িত্ব। সরকারের নির্দেশনা পেলেই সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পথে এগিয়ে যাবে ইসি।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ঈদের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে।