
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি তাসকীন আহমেদ
দেশে চলমান অসহনীয় চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যদি দ্রুত চাঁদাবাজি বন্ধের কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা বন্ধ করে চলে যেতে বাধ্য হবেন।
‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের নিকট প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই সম্মেলনে ব্যবসায়ী নেতারা বর্তমান অর্থনীতির নানা সংকট ও সরকারের প্রতি তাদের দাবির কথা তুলে ধরেন।
ডিসিসিআই সভাপতি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি; বরং অনেক ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি হারে চাঁদা দিতে হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেনি এবং সরকারি দপ্তরগুলোতে একদিনের জন্যও দুর্নীতি কমেনি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এখন কারখানায় ঢুকতে, অফিসে এমনকি রাস্তায় রাস্তায় চাঁদা দিতে হচ্ছে। চাঁদাবাজরা এসে নিজেদের সরকারি দলের লোক বলে পরিচয় দিচ্ছে। এই সংস্কৃতি পরিবর্তনের জন্য এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা ফেরাতে নতুন সরকারের কাছ থেকে একটি কঠোর বার্তার প্রত্যাশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করা হয়। তাসকীন আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, বিনিয়োগ কমেছে এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধি তলানিতে ঠেকেছে। এর পেছনে ব্যাংকিং খাতের সংকট, জ্বালানি অভাব এবং অস্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে দায়ী করেন তিনি।
বিশেষ করে উচ্চ নীতি সুদহারের কারণে ব্যবসায়ীদের ১৬-১৭ শতাংশ হারে ঋণ নিতে হচ্ছে, যা ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে চাহিদামাফিক গ্যাস সরবরাহ না থাকায় শিল্প-কারখানার উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিতর্কিত কোনো চুক্তির বিষয়ে সজাগ থাকার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং এলডিসি উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানানো হয়। পরিশেষে, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবনে ডিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা, সরকারি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা, ইচ্ছাকৃত খেলাপি নন এমন ব্যবসায়ীদের ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দিয়ে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এবং ঋণের সুদের হার একটি যুক্তিসংগত পর্যায়ে নামিয়ে আনা।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই-এর ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহসভাপতি সালিম সোলায়মান।










































