
জরিপের ফলাফল আরও ইঙ্গিত দেয় যে মুসলিমদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সমাজে একীভূত হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি
নতুন একটি জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাজ্যের মুসলিমরা সাধারণ জনগণের তুলনায় গণতন্ত্রকে বেশি সমর্থন করেন এবং বিপুল সংখ্যক মুসলিম মনে করেন যে তারা যুক্তরাজ্যেরই অংশ। এই ফলাফল বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের রাজনীতিকদের সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে, যেখানে বলা হয় যে অনেক ব্রিটিশ মুসলিম সমাজের মূলধারায় একীভূত নন এবং ব্রিটিশ মূল্যবোধের বিরোধী।
২০২৫ সালের অক্টোবরে ট্রান্সআটলান্টিক থিঙ্কট্যাঙ্ক কনকর্ডিয়া ফোরামের উদ্যোগে একটি ‘জাতীয়ভাবে প্রতিনিধিত্বশীল মুসলিম জরিপ’ পরিচালিত হয়। জরিপে দেখা যায়, ব্রিটিশ মুসলিমদের ৮৫ শতাংশ গণতন্ত্রকে ‘সেরা শাসনব্যবস্থা”’ হিসেবে সমর্থন করেন। বিপরীতে সাধারণ ব্রিটিশ জনগণের মধ্যে এই হার ৭১ শতাংশ। একইভাবে মুসলিমদের ৯৪ শতাংশ ‘সব ধর্ম ও অধর্মের মানুষের জন্য আইনের সমান প্রয়োগ’ সমর্থন করেন, যেখানে সাধারণ জনগণের মধ্যে এই হার ৮০ শতাংশ।
জরিপের ফলাফল আরও ইঙ্গিত দেয় যে মুসলিমদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের সমাজে একীভূত হওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। ৯৩ শতাংশ মুসলিম জানিয়েছেন যে তারা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত মনে করেন। প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন মুসলিম বলেছেন, তারা যুক্তরাজ্যের প্রতি সম্পূর্ণ বা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অনুগত বোধ করেন। কিন্তু সাধারণ ব্রিটিশ জনগণের ক্ষেত্রে এই হার মাত্র অর্ধেক।
এই গবেষণা দীর্ঘদিনের সেই অভিযোগকেও দুর্বল করে যে মুসলিমরা দেশের বাকি সমাজ থেকে আলাদা সমান্তরাল জীবন যাপন করেন।
জরিপে আরও দেখা গেছে, ১০ জন মুসলিমের মধ্যে ৮ জন অন্তত সাপ্তাহিকভাবে অমুসলিমদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেন। আর ৩৮ শতাংশ মুসলিম জানিয়েছেন, তারা বা তাদের পরিবারের সদস্যরা কোনো না কোনোভাবে জনসেবামূলক কাজে যুক্ত ছিলেন।
এছাড়া এলজিবিটিকিউ+ মানুষের সমান আইনি অধিকার সমর্থনের ক্ষেত্রেও মুসলিমরা সাধারণ জনগণের তুলনায় বেশি সমর্থন দেখিয়েছেন। মুসলিমদের ৭০ শতাংশ এ ধরনের অধিকারের পক্ষে, যেখানে সাধারণ জনগণের মধ্যে এই হার ৬৬ শতাংশ।
জরিপে অংশ নেওয়া মুসলিমদের ৯০ শতাংশ বলেছেন, সব ধরনের বিদ্বেষ—যেমন ইহুদিবিদ্বেষ—বিরোধী অবস্থান নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ৭৪ শতাংশ মুসলিম মনে করেন ইসলাম মোটামুটি পশ্চিমা মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এই জরিপ এমন সময়ে প্রকাশ পেল যখন যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি সরকার নতুন একটি সামাজিক সংহতি কৌশল চালু করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, কিছু এলাকায় একীভূতকরণে যথেষ্ট মনোযোগ না দেওয়ায় মানুষ মূলধারার সংস্কৃতি থেকে আলাদা হয়ে “সমান্তরাল সামাজিক গোষ্ঠী” তৈরি করছে।
এর কয়েক সপ্তাহ আগেই ডানপন্থী রাজনৈতিক দল রিফর্ম ইউকে অভিযোগ গর্টন ও ডেন্টন উপনির্বাচনে মুসলিমদের বিরুদ্ধে “সাম্প্রদায়িকতা” ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ তোলে। ওই আসনে প্রতি চারজন ভোটারের একজন মুসলিম। রিফর্ম ইউকে “ফ্যামিলি ভোটিং” নামে একটি অভিযোগও তোলে, যেখানে ভোটকেন্দ্রে পরিবার সদস্যরা একে অপরকে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দেশনা দেয়—যা যুক্তরাজ্যে অবৈধ।
দলের নেতা নাইজেল ফারাজ এ প্রসঙ্গে বলেন, মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে।
তবে নতুন জরিপের ফলাফল এসব অভিযোগের বিপরীত চিত্র তুলে ধরেছে।




































