
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে এক ভয়াবহ অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম একলাফে প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ ডলারের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
আনাদোলু এজেন্সির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৫.৭ শতাংশ বেড়ে ১১৪.২ ডলারে পৌঁছেছে এবং একই সময়ে মার্কিন বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ফিউচারসের দাম ৬.১৮ শতাংশ বেড়ে ১০০ ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত ব্রেন্ট তেলের দাম প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই তেলের দাম প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্ববাজারে এমন অস্থির পরিস্থিতির মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে আরও বড় সংকটের আভাস দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ রাশিয়া। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের এই অস্বাভাবিক ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আগামী ১ এপ্রিল থেকে পেট্রোল রপ্তানি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ক্রেমলিন।
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় খসড়া সিদ্ধান্ত তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে বলে জানা গেছে।
রুশ সংবাদ সংস্থা ‘তাস’ জানিয়েছে, বিদেশে রাশিয়ার জ্বালানির ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বর্তমানে নিজেদের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই দেশটির সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লোহিত সাগরে অস্থিরতা এবং রাশিয়ার এই রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ রাশিয়ার জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য আগামী দিনগুলো বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। এই সরবরাহ ঘাটতি তেলের দামকে ঐতিহাসিক রেকর্ডের দিকে নিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে উন্নত দেশগুলো ইতিমধ্যে তাদের জ্বালানি মজুত ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন শুরু করেছে। বৈশ্বিক এই সংকটের ঢেউ ইতিমধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতেও উদ্বেগ তৈরি করেছে।










































