বৃহস্পতিবার । এপ্রিল ২, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক রাজনীতি ১ এপ্রিল ২০২৬, ৯:২৯ অপরাহ্ন
শেয়ার

আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নেই: ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতা


Jamat-Amir

সংগৃহীত ছবি

গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামার ইঙ্গিত দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউটের পর তিনি বলেন, “আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নেই। জনগণের রায় কার্যকর করতে হবে।” আইনমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃতির অভিযোগ তুলে তিনি জানান, ১১-দলীয় জোটের বৈঠকে আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারিত হবে।

সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি পরিষ্কার করেন, তারা সংসদ বর্জন করেননি, বরং ওয়াকআউট করেছেন। বৃহস্পতিবার সংসদে ফিরবেন কি না—তা পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত হবে। সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আখতার হোসেন ও খেলাফত মজলিসের এমপি পীরজাদা হানজালাও উপস্থিত ছিলেন।

বিরোধী দল অভিযোগ করে, বিএনপি গণভোট প্রস্তাব করলেও ক্ষমতায় এসে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন থেকে সরে গেছে। মঙ্গলবার বিরোধী দলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাবের আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘বিশেষ সংবিধান সংশোধন কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন। তবে বিরোধী দল সমান সদস্য নিয়ে ‘সংবিধান সংস্কার কমিটি’ চেয়েছিল। আইনমন্ত্রী বলেন, সমান সদস্য সম্ভব নয়। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিরোধীদলীয় নেতা।

বুধবার প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে বিরোধী দল প্রস্তাবটির বিষয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্ত জানতে চাইলে স্পিকার জানান, অতীতে মাত্র তিনটি মুলতবি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে; মঙ্গলবারের আলোচনা দিয়েই প্রস্তাবের নিষ্পত্তি হয়েছে। স্পিকার ওয়াকআউট না করার আহ্বান জানালেও জামায়াত-এনসিপি জোট সিদ্ধান্তে অটল থাকে।

ওয়াকআউটের কারণ ব্যাখ্যায় শফিকুর রহমান বলেন, “গণভোটের রায় সংসদে কার্যকর করা না গেলে আমরা জনগণের কাছেই ফিরে যাব।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, জুলাই সনদের ওপর সরকারি দলের পক্ষ থেকে নতুন নোটিশ এনে জনগণের অভিপ্রায় চাপা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। স্বতন্ত্র এমপি শেখ মুজিবুর রহমানের পর বিএনপির জয়নুল আবদিন ফারুকও এদিন জুলাই সনদ নিয়ে মুলতবি প্রস্তাব আনেন। ৫৩ বছরের ইতিহাসে সরকারি দলের মুলতবি প্রস্তাব এই প্রথম; ৫ এপ্রিল এ বিষয়ে আলোচনা হবে।

জামায়াত আমির স্মরণ করিয়ে দেন—আগের তিনটি গণভোটের ফল মানা হয়েছে। এবারও জনগণের রায় কার্যকর হওয়া উচিত। তিনি বলেন, “জুলাই সনদের মূল অংশে সরকারি দল নোট অব ডিসেন্ট দিলেও জনগণ গণভোটে এটি অনুমোদন করেছে। সংসদে সম্ভব না হলে জনগণের দাবিই জনগণের কাছে নিয়ে যাব।”