
ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো সামরিক জাহাজ চলাচল করলে তারা কঠোর জবাব দেবে
ইরানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কোনো সমঝোতা করতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে তারা তাদের সমর্থকদের রাস্তায় সক্রিয় থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
শনিবার পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল ‘এই দফায় ইরানি প্রতিনিধিদলের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ, যিনি ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের জলসীমায় অবস্থিত হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে চাওয়া সব জাহাজের ওপর মার্কিন নৌবাহিনী অবরোধ আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করবে। তিনি আরও বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ রয়েছে এবং ‘সঠিক সময়ে’ ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো সামরিক জাহাজ চলাচল করলে তারা কঠোর জবাব দেবে। একই সঙ্গে তারা যুক্তরাষ্ট্রের দাবি—দুটি যুদ্ধজাহাজ প্রণালী অতিক্রম করেছে—এটিও প্রত্যাখ্যান করেছে।
ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান গোলাম-হোসেইন মোহসেনি-এজেই ইসলামাবাদে যাওয়া প্রতিনিধিদলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, তারা দেশের অধিকার রক্ষা করেছেন।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর এক সদস্য সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘শত্রু যদি না বোঝে, আমরা তাকে বুঝিয়ে দেব।’
সামনে আরও উত্তেজনা
এর আগে ইরানের সরকারপন্থী কিছু মহল হঠাৎ করে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার ঘোষণায় হতাশা প্রকাশ করেছিল। অভ্যন্তরীণ উদ্বেগ কমাতে ইসলামাবাদে ইরানের প্রতিনিধিদলে ৮৫ জনেরও বেশি সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। এতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, কূটনীতিক আলী বাঘেরি কানি, প্রতিরক্ষা পরিষদের প্রধান আলী আকবর আহমাদিয়ান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা ছিলেন।
শনিবারের আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, কূটনৈতিক অগ্রগতি এখনো দূরে এবং পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ তাৎক্ষণিকভাবে শুরু না হলেও উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি ট্রাম্পের হুমকি সম্পর্কে বলেন, ‘আলোচনার পর তিনি যা বলছেন, তা অতিকথন। তিনি শুধু নিজের ইচ্ছার কথাই বলছেন।’
এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানকে ফোন করে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিনি কূটনৈতিকভাবে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।




































