
ফাইল ছবি
চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম ১৪ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১৬০ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯ হাজার ৬০৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই হালনাগাদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ে (এপ্রিলের প্রথম ১৪ দিন) দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১২৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে চলতি বছর এ সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে প্রায় ২৫ দশমিক ২০ শতাংশ। শুধু গত দুই দিনেই (সোমবার ও মঙ্গলবার) দেশে এসেছে প্রায় ২ হাজার ৮৬ কোটি ২০ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭৮১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২ হাজার ৩০৬ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ফলে এ সময়ে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ দশমিক ৬০ শতাংশ।
মাসিক ভিত্তিতেও রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা বজায় রয়েছে। গত বছরের তুলনায় এপ্রিলে প্রথম ১৪ দিনে প্রায় ৩২ কোটি ৩০ লাখ ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, দেশের ইতিহাসে প্রবাসী আয়ের ক্ষেত্রে গত কয়েক মাসে একের পর এক নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে গত মার্চ মাসে দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ ৩.৭৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
এর আগে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে ৩.২৯ বিলিয়ন ডলার এবং একই বছরের ডিসেম্বরে ৩.২৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স আসার রেকর্ড রয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে ৩.১৭ বিলিয়ন ডলার আসার মাধ্যমে চতুর্থ সর্বোচ্চ রেকর্ড তৈরি হয়।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রভাব বৈদেশিক মুদ্রাবাজারেও পড়তে শুরু করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের চাহিদা বাড়ায় এর বিনিময় হার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে প্রবাসীরা দেশে পাঠানো অর্থের বিপরীতে তুলনামূলক বেশি টাকা পাচ্ছেন।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়তে পারে। তাই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।







































