
ফাইল ছবি
আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে বড় ধরণের উত্থান হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) লেনদেনের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে সোনার বাজারে।
আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, স্পট গোল্ডের দাম ০.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪,৭৫১.৫৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে জুন ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দাম ১.১ শতাংশ বেড়ে ৪,৭৭০.১০ ডলারে পৌঁছেছে।
উইজডমট্রির পণ্য কৌশলবিদ নিতেশ শাহ বলেন, বাজারের ওপর থেকে চাপ কমে আসায় স্বর্ণের দামে এই ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। যখন অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে চাপ কমে, তখন স্বর্ণের দাম বাড়ার নতুন সুযোগ তৈরি হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণায় বুধবার বিশ্ব শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে এবং বিপরীতে মার্কিন ডলারের মান কিছুটা কমেছে। যদিও হরমুজ প্রণালি এখনো বন্ধ রয়েছে, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে অবস্থান করায় বিনিয়োগকারীরা কিছুটা স্বস্তিবোধ করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ডলার দুর্বল হওয়ার কারণেই স্বর্ণের চাহিদা ও দাম বেড়েছে।
যুদ্ধবিরতি বাড়লেও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো কাটেনি। একই দিনে ইরান হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজ জব্দ করেছে, যা কৌশলগত এই জলপথে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প ইরানের ওপর অবরোধ বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ইরান এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তে শেষ পর্যন্ত একমত হবে কি না, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। এই অনিশ্চয়তাও অনেক বিনিয়োগকারীকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য করছে।
ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভান্নি স্টাউনোভো এক পূর্বাভাসে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ফেড) আগামী ১২ মাসে সুদের হার আরও কমাতে পারে। সুদের হার কমলে এবং ডলার দুর্বল থাকলে বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫,৯০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ বেড়েছে। রূপার দাম ১.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৮.১০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামেও প্রায় ২ শতাংশের মতো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।






































