সোমবার । মে ১১, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১১ মে ২০২৬, ৫:৩০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ নিলে হরমুজ প্রণালি ব্যবহার সহজ হবে না: ইরান


hormuz

হরমুজ প্রণালি। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে সহযোগিতা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি ব্যবহার সহজ হবে না বলে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞার জবাবে তেহরান এই অবস্থান নিয়েছে।

সম্প্রতি ইরানের তেল পরিবহন, ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে ইরানকে কোনো ধরনের অর্থ পরিশোধ না করারও নির্দেশ দেয় ওয়াশিংটন।

এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা মোহাম্মদ আকরামিনিয়া বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করবে, তারা হরমুজ প্রণালি ব্যবহারে জটিল পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে।

ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এখন থেকে এ পথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে ইরানি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে এবং নতুন টোল ব্যবস্থাও কার্যকর করা হয়েছে।

শিপিং বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান লয়েডস লিস্ট ইন্টেলিজেন্স জানিয়েছে, এ লক্ষ্যে ‘পার্সিয়ান গালফ স্ট্রেট অথরিটি’ নামে নতুন সংস্থা গঠন করেছে তেহরান। ইতোমধ্যে জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অনুমতির জন্য নির্দিষ্ট ফরম পাঠানো হয়েছে।

ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজিও সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত অবস্থানের পক্ষে যেসব দেশ থাকবে, তাদের জন্য পরিস্থিতি সুখকর হবে না।

অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপ করা বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবিতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে খসড়া প্রস্তাব তুলেছে যুক্তরাষ্ট্র ও বাহরাইন।

ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার হামিদরেজা হাজিবাবাই দাবি করেছেন, হরমুজ প্রণালিতে টোল আরোপের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রাজস্ব আয় করেছে তেহরান। বর্তমানে সীমিতসংখ্যক জাহাজকে এই পথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে এ নৌপথে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে ইরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।