
ছবি: সংগৃহীত
মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে পাকিস্তান বনাম বাংলাদেশের মধ্যকার টেস্ট ম্যাচটি এখন দারুণ রোমাঞ্চকর মোড়ে দাঁড়িয়ে। মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণি জাদুতে প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়ার পর, দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ৭ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। ফলে দিন শেষে টাইগারদের মোট লিড দাঁড়িয়েছে ৩৪ রানের।
বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৮৬ রানে অলআউট হয়। সফরকারীদের হয়ে আজান ওয়াইস ১০৩ রানের লড়াকু সেঞ্চুরি করেন। এছাড়া আব্দুল্লাহ ফজল (৬০), সালমান আলী আগা (৫৮) এবং মোহাম্মদ রিজওয়ান (৫৯) কার্যকর ইনিংস খেললেও বড় লিড নিতে ব্যর্থ হয় তারা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে মেহেদী হাসান মিরাজ ছিলেন বিধ্বংসী। ১০২ রান খরচায় ৫ উইকেট শিকার করে ক্যারিয়ারের আরেকটি ‘ফাইফার’ পূর্ণ করেন এই অফস্পিনার।
ম্যাচের এক পর্যায়ে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া পাকিস্তানের হাল ধরেছিলেন সালমান আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। তাঁদের মধ্যকার ১১৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিটি বাংলাদেশের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেয়। তবে চা বিরতির ঠিক আগে তাইজুল ইসলাম এই শক্ত জুটি ভাঙতে সক্ষম হন। তাইজুলের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে আকাশে বল তুলে দেন ৫৯ রান করা রিজওয়ান, যা সহজেই তালুবন্দি করেন মাহমুদুল হাসান জয়। মূলত এই উইকেটের মাধ্যমেই ম্যাচে আবারও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় বাংলাদেশ।
এর আগে প্রথম দিনে দারুণ ছন্দে থাকা বাংলাদেশ দ্বিতীয় দিনের শুরুতে ব্যাটিংয়ে নেমে খেই হারিয়ে ফেলে। মাত্র ৭৫ রান যোগ করতেই শেষ ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। লোয়ার অর্ডারের এই ব্যর্থতায় ৪১৩ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। অথচ প্রথম দিনের দাপট বজায় থাকলে এই সংগ্রহ অনায়াসেই পাঁচশ ছাড়াতে পারত।
বিশাল সংগ্রহের জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করে পাকিস্তান। সফরকারী ওপেনাররা শুরু থেকেই বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে খেলেন। তাসকিন ও ইবাদত কয়েকবার সুযোগ তৈরি করলেও ফিল্ডারদের ব্যর্থতায় উইকেট আদায় করতে পারেনি বাংলাদেশ। চা বিরতির পর দলীয় সংগ্রহ ১০০ পার হলে মেহেদী হাসান মিরাজ ব্রেকথ্রু এনে দেন। ৪৫ রান করা ইমাম-উল-হককে ফিরিয়ে ওপেনিং জুটি ভাঙেন তিনি।
ইমামের বিদায়ের পর আব্দুল্লাহ ফজলকে নিয়ে দিনের বাকি সময়টা নিরাপদেই পার করে দেন ওপেনার আজান আওয়াইস। শেষ বিকেলে পিচে কিছুটা টার্ন থাকলেও বুদ্ধিমত্তার সাথে তা সামাল দিয়েছেন পাকিস্তানি ব্যাটাররা। দ্বিতীয় দিন শেষে ৪৬ ওভার খেলে ১ উইকেটে ১৭৯ রান তুলেছিলো পাকিস্তান।











































