
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে গত পাঁচ দিন ছিল একেবারে সিনেমার মতো নাটকীয়তায় ভরা। ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে ১০ মে শপথ গ্রহণ পর্যন্ত সময়জুড়ে চলেছে জোট গঠন, সমর্থনপত্র, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক দরকষাকষি। অবশেষে সব জট কাটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অনুমতি পেলেন অভিনেতা-রাজনীতিক জোসেফ বিজয়, যিনি বিজয় থালাপতি নামে বেশি পরিচিত।
সংখ্যার খেলায় শুরু সংকট
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিজয়ের দল টিভিকে পেয়েছে ১০৮টি আসন। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮ আসন। ফলে শুরুতেই ১০ আসনের ঘাটতিতে পড়ে দলটি।
তবে বিজয় নিজে দুইটি আসন থেকে জিতলেও বিধানসভায় ভোট দিতে পারবেন একবারই। ফলে কার্যকরভাবে টিভিকের সংখ্যা নেমে আসে ১০৭-এ। সেই হিসেবে সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পৌঁছাতে প্রয়োজন হয় আরও ১১ জন বিধায়কের সমর্থন।
কংগ্রেস-সিপিআইয়ের সমর্থন, তবুও মিলছিল না সমীকরণ
বিজয়ের দিকে প্রথমেই সমর্থনের হাত বাড়ায় কংগ্রেস পার্টি। তারা পাঁচটি আসনে জয়লাভ করেছে। কংগ্রেসের সমর্থনের সঙ্গে শর্ত ছিল বিজেপি বা এআইএডিএমকের মতো ‘সাম্প্রদায়িক শক্তি’র সঙ্গে হাত মেলাতে পারবে না টিভিকে।
এরপর কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া দুইটি এবং কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়া (মার্ক্সিস্ট) আরও দুইটি আসনের সমর্থন দেয়। তবুও জোটের সংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র ১১৬।
শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের চাবিকাঠি হয়ে ওঠে ভিসিকে এবং ইন্ডিয়ান মুসলিম লীগের (আইইউএমএল) সমর্থন।
সমর্থনপত্র ঘিরে নাটক
এই সময় একের পর এক নাটকীয় ঘটনা ঘটে। ভিসিকে প্রধান থিরুমাভালাভান মাঝেমধ্যে বিজয়কে কটাক্ষও করেন। অন্যদিকে আইইউএমএল প্রথমে সমর্থনের ইঙ্গিত দিলেও পরে দাবি করে, ‘কোনও সমর্থনপত্র দেওয়া হয়নি।’
এমনও দাবি ওঠে, টিভিকে নাকি ভুয়া সমর্থনপত্র ছড়িয়েছে।
শুক্রবার রাতে ভিসিকের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে বিজয়কে সমর্থনের চিঠি পোস্ট করা হলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি মুছে ফেলা হয়। পরে পুরো অ্যাকাউন্টও অদৃশ্য হয়ে যায়। তবে স্ক্রিনশট ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছিল।
শনিবার বিকেলে বদলে যায় পরিস্থিতি
শনিবার বিকেল ৫টার মধ্যে ভিসিকে ও আইইউএমএল আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকে-কে সমর্থনের আনুষ্ঠানিক দেয়। ফলে টিভিকে-সহ জোটের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১২০-এ, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য যথেষ্ট।
অবশেষে মিলল সরকার গঠনের ডাক। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিজয়ের হাতে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন গর্ভনর।
রোবাবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে চেন্নাইয়ের জহওরলাল নেহেরু ইনডোর স্টেডিয়ামে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি সুপারস্টার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বিজয় থালাপতি। তবে সরকার গঠনের পরও তাকে ১৩ মে বিধানসভায় আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে।
অভিনেতা হিসেবে ‘থালাপতি’ নামে পরিচিত বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রার এই অধ্যায়ও যেন তার সিনেমার চিত্রনাট্যের মতোই—শেষ মুহূর্তের উত্তেজনা, টানটান সাসপেন্স আর নাটকীয় জয়।
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল








































