
শুধু উগান্ডাতেই নয়, কেনিয়া, রুয়ান্ডা ও বুরুন্ডিতেও এখন রোলেক্স জনপ্রিয় হয়ে উঠছে
বিশ্বজুড়ে ‘রোলেক্স’ নামটি শুনলেই সবার আগে মনে আসে বিলাসবহুল ঘড়ির কথা। কিন্তু পূর্ব আফ্রিকার দেশ উগান্ডায় রোলেক্স মানে এক জনপ্রিয় খাবার। সেখানে মানুষ মজা করে বলে, ‘আমরা রোলেক্স হাতে পরি না, খাই!’
উগান্ডার উদ্যোক্তা ইমানুয়েল জোনাথন ওকেলো যখন নিজের রেস্টুরেন্ট খোলার সিদ্ধান্ত নেন, তখন থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন—মেন্যুর প্রধান আকর্ষণ হবে ‘রোলেক্স’।
আসলে এই খাবারের নাম এসেছে ‘রোলড এগ’ বা মোড়ানো ডিম থেকে। ভারতীয়দের নিয়ে আসা চাপাতি রুটির মধ্যে অমলেট ভরে রোল করে পরিবেশন করা হতো। ধীরে ধীরে ‘রোলড এগ’ শব্দটি মানুষের মুখে মুখে বদলে হয়ে যায় ‘রোলেক্স’।
ইতিহাস বলছে, ব্রিটিশ শাসনামলে রেললাইন নির্মাণের জন্য ভারতীয় শ্রমিকদের উগান্ডায় আনা হয়েছিল। তাদের মাধ্যমেই চাপাতি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে উগান্ডাবাসী নিজেদের স্বাদ অনুযায়ী চাপাতিকে আরও নরম ও মচমচে করে তোলে।
প্রথমদিকে এটি ছিল পূর্ব উগান্ডার শ্রমজীবী মানুষের সস্তা খাবার। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রোলেক্স পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এখন রাস্তার দোকান থেকে শুরু করে আধুনিক ক্যাফে, এমনকি অভিজাত রেস্টুরেন্টেও দেখা মেলে এই খাবারের।
বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কাছে রোলেক্স দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। মাত্র ২০ সেন্টের মতো খরচে পেট ভরে যেত, তাই ছাত্রদের জন্য এটি ছিল আদর্শ খাবার।

ওকেলোর নিজেরও রোলেক্সের প্রেমে পড়ার গল্প আছে। জিনজা শহরে এক সফরে তিনি এক বিক্রেতার তৈরি ভাজা ট্রাইপ (গরুর ভুঁড়ি) দেওয়া রোলেক্স খেয়ে মুগ্ধ হন। তখনই তিনি ভাবেন, ‘রোলেক্সে তো যেকোনো কিছুই যোগ করা সম্ভব!’
এরপর তিনি নানা ধরনের রোলেক্স নিয়ে পরীক্ষা শুরু করেন—বিফ সসেজ, চিকেন গ্রেভি, কারি, বেকন, অ্যাভোকাডো, কিমা—এমনকি ফল দিয়েও রোলেক্স বানিয়েছিলেন। যদিও ফলের সংস্করণটি খুব একটা জনপ্রিয় হয়নি।
বর্তমানে তার ‘দ্য রোলেক্স গাই’ নামে রেস্টুরেন্টের দুটি শাখা রয়েছে—একটি রাজধানী কাম্পালায় এবং অন্যটি এন্টেব্বেতে। সেখানে ‘এভরিথিং রোলেক্স’ নামে বিশেষ একটি আইটেমও রয়েছে, যার দাম প্রায় ৫.৫০ ডলার।
খাদ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, রোলেক্স উগান্ডার খাবারে এক নতুন ধারা নিয়ে এসেছে। আগে দেশটির ঐতিহ্যবাহী খাবারে আলাদা করে মাংস, তরকারি ও কার্বোহাইড্রেট পরিবেশন করা হতো। কিন্তু রোলেক্স সবকিছু একসঙ্গে মুড়ে সহজ ও দ্রুত খাবারে পরিণত করেছে।

উগান্ডার সংস্কৃতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রোলেক্সও বদলে যাচ্ছে। কাম্পালায় বসবাসরত ইথিওপিয়ান ও ইরিত্রিয়ান সম্প্রদায় এখন এতে ‘শিরো’ নামের মসলাদার ছোলার স্ট্যু যোগ করছে। আবার আধুনিক ক্যাফেগুলো অলিভ, ফেটা চিজ ও সান-ড্রাইড টমেটো দিয়ে নতুন স্বাদের রোলেক্স তৈরি করছে।
এমনকি ওকেলো এখন ‘রোলেক্স পিজ্জা’ নিয়েও পরীক্ষা চালাচ্ছেন, যেখানে চাপাতি ও ডিম মিশিয়ে পিজ্জার ক্রাস্ট বানানো হচ্ছে।
শুধু উগান্ডাতেই নয়, কেনিয়া, রুয়ান্ডা ও বুরুন্ডিতেও এখন রোলেক্স জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। তবে উগান্ডাবাসীদের কাছে এটি এখন প্রায় জাতীয় খাবারের মর্যাদা পেয়েছে।
আর বিলাসবহুল ঘড়ির ব্র্যান্ড রোলেক্সের সঙ্গে নামের মিল নিয়ে উগান্ডাবাসীদের কোনো মাথাব্যথা নেই। একজন খাদ্যগবেষকের কথায়, ‘৬ কোটি মানুষ যদি একে রোলেক্স বলেই ডাকে, তাহলে আর করার কী আছে? বরং সেই ব্র্যান্ডেরই গর্বিত হওয়া উচিত!’
সিএনএন
বাংলা টেলিগ্রাফ ভিজ্যুয়াল










































