
প্রকৃতির খামখেয়ালি রূপ
আকাশের নীল আজ হারিয়েছে একরাশ কালো মেঘের আড়ালে। ঘড়ির কাঁটায় তখনো বিকেল কিন্তু ঢাকার রাজপথে হেডলাইট জ্বালিয়ে ছুটছে যানবাহন। বুধবারের এই থমথমে বিকেলে প্রকৃতির রুদ্ররূপে থমকে গেছে নাগরিক ব্যস্ততা। ঝমঝমিয়ে নামা বৃষ্টি যেমন ধুলোবালি ধুয়ে দিয়েছে, তেমনি নতুন করে সৃষ্টি করেছে জলাবদ্ধতা আর যানজটের ভোগান্তি।দ
আবহাওয়া অধিদপ্তর আজ সকালেই জানিয়েছিল এই মেঘের ঘনঘটার কথা। তবে ঢাকার আকাশের এই অন্ধকার যেন সব পূর্বাভাসকেও ছাপিয়ে গেছে। আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রমেঘের এই সৃষ্টি প্রক্রিয়া আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার এক বিশেষ বার্তায় বলা হয়েছে—রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে ঝরতে পারে ৪৪ থেকে ১৮৮ মিলিমিটার পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি।

ঢাকার রাজপথে হেডলাইট জ্বালিয়ে ছুটছে যানবাহন
মেঘের গর্জনে আজ বারবার কেঁপেছে বুক। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, বজ্রের শব্দ কানে আসা মানেই আপনি ঝুঁকির বৃত্তে আছেন। প্রকৃতির এই মরণঘাতী খেলা থেকে বাঁচতে শেষ বজ্রধ্বনি শোনার পর অন্তত ৩০ মিনিট ঘরের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জসহ বিস্তীর্ণ জনপদে কালবৈশাখীর ঝাপটা ও বজ্রপাতের আশঙ্কা এখনো কাটেনি।
নদীমাতৃক এই দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথগুলোতেও বইছে সতর্কতার হাওয়া। রংপুর থেকে সিলেট -বিশাল এক অঞ্চলে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। তাই নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে সাবধানে চলতে বলা হয়েছে। এদিকে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশির ওপর ডানা মেলছে এক লঘুচাপ, যা বর্তমানে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিপাতের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঢাকার আকাশ এখনও ঘন মেঘে ঢাকা, ঝিরঝিরে বৃষ্টির সাথে বইছে উদাস হাওয়া। প্রকৃতির এই খামখেয়ালি রূপ একদিকে যেমন শীতল পরশ বুলিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে বিপন্ন করে তুলছে ঘরমুখী মানুষের যাত্রা। আগামী কদিন এই বৃষ্টি ও বজ্রের মেঘ যে দেশের আকাশে দাপিয়ে বেড়াবে, আবহাওয়ার চিত্রপট সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে।












































