শুক্রবার । মে ১৫, ২০২৬
ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ১৫ মে ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

অ্যাপ ব্যবহার না করলেও আপনার তথ্য সংগ্রহ করছে টিকটক, কীভাবে বাঁচবেন!


Tiktok

প্রযুক্তিবিষয়ক বিশ্লেষকদের দাবি, টিকটকের এই নজরদারি ব্যবস্থা এখন আগের চেয়ে আরও বড় ও শক্তিশালী হয়ে উঠছে ।। ছবি: বিবিসি

শুধু ব্যবহারকারীরই নয়, অ্যাপটি ব্যবহার না করলেও অনেকের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে জনপ্রিয় ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইটে থাকা গোপন ট্র্যাকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অনলাইন কার্যক্রম নজরদারি করছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রযুক্তিবিষয়ক বিশ্লেষকদের দাবি, টিকটকের এই নজরদারি ব্যবস্থা এখন আগের চেয়ে আরও বড় ও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ফলে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য, পছন্দ, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অনুসন্ধান এমনকি মানসিক অবস্থার তথ্যও সংগ্রহের ঝুঁকি বাড়ছে।

অ্যাপ না থাকলেও তথ্য যাচ্ছে টিকটকে
অনেকেই মনে করেন, টিকটক ব্যবহার না করলে তাদের তথ্য নিরাপদ থাকে। কিন্তু বাস্তবে বিভিন্ন ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত ‘টিকটক পিক্সেল’ নামের ট্র্যাকিং টুলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

এটি মূলত এক ধরনের অদৃশ্য কোড, যা ওয়েবসাইটে যুক্ত থাকে। ব্যবহারকারী কোনো ওয়েবসাইটে ঢুকলে বা কোনো বাটনে ক্লিক করলে সেই তথ্য টিকটকের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ধরনের তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থা।

কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ হয়?
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কিছু ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের সংবেদনশীল তথ্যও টিকটকের সঙ্গে ভাগ করছে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে— কেউ ক্যানসার রোগী বা ক্যানসার থেকে বেঁচে ফেরা ব্যক্তি হিসেবে কোনো ফর্ম পূরণ করলে সেই তথ্য। বন্ধ্যাত্ব বা গর্ভধারণসংক্রান্ত পরীক্ষা সম্পর্কে খোঁজ করলে। মানসিক সংকট বা কাউন্সেলিং সহায়তা খুঁজলে। এসব ক্ষেত্রেও ব্যবহারকারীর ই-মেইলসহ বিভিন্ন তথ্য টিকটকের কাছে পৌঁছে যেতে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়েবসাইটগুলো সব দর্শনার্থীর তথ্য পাঠাতে পারে। ফলে টিকটক অ্যাকাউন্ট না থাকলেও কেউ এই নজরদারির বাইরে থাকছেন না।

শুধু টিকটক নয়
গোপন ট্র্যাকিং প্রযুক্তি শুধু টিকটকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গুগল, মেটাসহ বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোও দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের ট্র্যাকার ব্যবহার করছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডাকডাকগোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের শীর্ষ ওয়েবসাইটগুলোর প্রায় ৫ শতাংশে টিকটকের ট্র্যাকার রয়েছে। তুলনায় গুগলের ট্র্যাকার রয়েছে প্রায় ৭২ শতাংশ এবং মেটার প্রায় ২১ শতাংশ সাইটে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব তথ্য ব্যবহার করে মানুষকে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন দেখানো, পণ্যের দাম ভিন্নভাবে নির্ধারণ বা রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো সম্ভব।

নতুন পরিবর্তনে বাড়ছে উদ্বেগ
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র কার্যক্রম নতুন মালিকানায় যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি নতুন ডেটা সংগ্রহ নীতিমালা চালু করে। এর অংশ হিসেবে টিকটক এখন এমন একটি বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক তৈরি করছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারী টিকটক থেকে বেরিয়ে অন্য ওয়েবসাইটে কী করছেন সেটিও নজরদারি করা সম্ভব হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এতে আরও বেশি প্রতিষ্ঠান টিকটকের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করবে এবং টিকটকের ট্র্যাকিং প্রযুক্তি আরও বেশি ওয়েবসাইটে ছড়িয়ে পড়বে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ নিলে এই ধরনের নজরদারি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

১. নিরাপদ ব্রাউজার ব্যবহার করুন
গুগল ক্রোমের বদলে বেশি প্রাইভেসি-সুরক্ষিত ব্রাউজার ব্যবহার করতে পারেন। যেমন— ব্রেভ, ডাকডাকগো ব্রাউজার, ফায়ারফক্স, সাফারি।

২. ট্র্যাকার ব্লকার ব্যবহার করুন
ব্রাউজারে ট্র্যাকার ব্লক করার এক্সটেনশন ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন— Privacy Badger, Ghostery, uBlock Origin, AdBlock Plus।

এসব টুল টিকটকসহ বিভিন্ন কোম্পানির গোপন ট্র্যাকিং অনেকটাই বন্ধ করতে সাহায্য করে।

৩. একই তথ্য সব জায়গায় ব্যবহার না করা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে একই ই-মেইল বা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করলে কোম্পানিগুলোর জন্য আপনার অনলাইন কার্যক্রম মিলিয়ে দেখা সহজ হয়। তাই আলাদা সেবায় আলাদা তথ্য ব্যবহার করা নিরাপদ হতে পারে।

প্রাইভেসি বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় শুধু ব্যবহারকারীর সতর্কতা যথেষ্ট নয়। শক্তিশালী গোপনীয়তা আইন ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

তাদের ভাষায়, এটি শুধু একটি অ্যাপের সমস্যা নয়, পুরো অনলাইন বিজ্ঞাপন ও তথ্য ব্যবসার বড় সংকট।