
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
চীন সফরের প্রথম দিনেই বড় কূটনৈতিক অগ্রগতির দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি জানিয়েছেন, চীন ইরানকে কোনো ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠককে অত্যন্ত ইতিবাচক উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে শি জিনপিংয়ের এই অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরানকে অস্ত্র সহায়তা না দেওয়ার বিষয়ে চীনা প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট আশ্বাস দিয়েছেন।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে চীন গোপনে তেহরানকে সামরিক সহায়তা দিতে পারে—এমন আশঙ্কা নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ ছিল। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও অভিযোগ করেছিল, তৃতীয় কোনো দেশের মাধ্যমে ইরানের কাছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সামরিক প্রযুক্তি পাঠানোর পরিকল্পনা করছে বেইজিং। তবে বৈঠকে শি জিনপিং এসব অভিযোগ নাকচ করেছেন বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
একইসঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, চীন ইরানের তেল আমদানি চালিয়ে যাবে এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি তুলবে না। এছাড়া হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে সহযোগিতার প্রস্তাবও দিয়েছে বেইজিং। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর ইরান গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ করে দেয়, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
বাণিজ্যিক দিক থেকেও সফরকে সফল দাবি করেছেন ট্রাম্প। তার ভাষ্য, চীন ২০০টি বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন ও পোল্ট্রি পণ্য আমদানিতেও সম্মত হয়েছে বেইজিং, যা মার্কিন কৃষকদের জন্য স্বস্তির খবর হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও তাইওয়ান ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা স্পষ্ট ছিল। শি জিনপিং ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, তাইওয়ান প্রশ্নে ভুল পদক্ষেপ বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের প্রথম দিনটি শেষ হয় গ্রেট হল অব দ্য পিপলে আয়োজিত এক রাজকীয় ভোজসভার মাধ্যমে। সেখানে ইলন মাস্ক ও টিম কুকসহ যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যবসায়ীরাও উপস্থিত ছিলেন।






































