
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে একাধিক তরুণী ও কিশোরীকে ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাবেক এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। টাওয়ার হ্যামলেটসের ওল্ড ফোর্ড রোডের বাসিন্দা আব্দুল হালিম খানকে বৃহস্পতিবার স্নেয়ারসব্রুক ক্রাউন কোর্টে হাজির করা হলে আদালত তাকে ন্যূনতম ২০ বছরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সাতজন ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধে ২১টি যৌন অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন হালিম খান। এর মধ্যে ছিল ৯টি ধর্ষণের অভিযোগ। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটিতে ইমাম হিসেবে নিজের অবস্থান ও আধ্যাত্মিক প্রভাবের অপব্যবহার করে তিনি নারী ও কিশোরীদের যৌন নির্যাতন করতেন।
লন্ডন নগর পুলিশের ডিটেকটিভ চিফ ইন্সপেক্টর জেনি রোনান বলেন, আব্দুল হালিম খান নিজেকে একজন সম্মানিত ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করলেও বাস্তবে তিনি নারীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, “ভুক্তভোগীরা সাহসিকতার সঙ্গে অভিযোগ জানিয়ে এবং বিচার প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে অসাধারণ দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। আশা করি এই রায় তাদের জন্য কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে আনবে।”
সাজা ঘোষণার পর এক ভুক্তভোগী বলেন, নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ করা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি। দীর্ঘ আট বছর পর তিনি ন্যায়বিচার পেয়েছেন, তবে মানসিক ক্ষত এখনো রয়ে গেছে।
পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম হালিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসে। সবচেয়ে কম বয়সী এক ভুক্তভোগী তার স্কুলশিক্ষকের কাছে বিষয়টি জানালে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে ৫০ জনের বেশি সাক্ষীর বক্তব্য নেওয়া হয় এবং ১০টি মোবাইল ফোন পরীক্ষা করা হয়।
তবে জিজ্ঞাসাবাদে হালিম খান সব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছিলেন, এটি তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। পরে তদন্তে তার বিরুদ্ধে ৯টি ধর্ষণ, ৪টি যৌন নিপীড়ন, ১২ বছরের কম বয়সী শিশুর ওপর যৌন নির্যাতনসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়।









































