শুক্রবার । মে ১৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক জাতীয় ১৫ মে ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ন
শেয়ার

সংশোধন হচ্ছে পাঠ্যবইয়ে ইতিহাস, যুক্ত হবে গণ-অভ্যুত্থান


Book

সংগৃহীত ছবি

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকে থাকা ‘একপেশে ইতিহাস’ সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসও নতুন পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী জানিয়েছেন, আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের বইয়ে এসব সংশোধন ও সংযোজন কার্যকর হবে। নতুন সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী যুগোপযোগী শিক্ষাক্রম প্রণয়ন ও পাঠ্যবই পরিমার্জনের কাজ চলছে বলেও জানান তিনি।

তার ভাষ্য, অতীতে পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের যে বিচ্যুতি ঘটেছিল, তা বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে নিরপেক্ষভাবে সংশোধন করা হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের বীরদের অবদান যথাযথভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি ৯০-এর গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের বিস্তারিত ইতিহাসও বইয়ে যুক্ত করা হবে।

এনসিটিবি জানায়, মাধ্যমিক পর্যায়ের ৯৭টি ও প্রাথমিক পর্যায়ের ৩৬টি বই পরিমার্জনে প্রায় ৩২০ জন বিশেষজ্ঞ কাজ করছেন। তাদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও অভিজ্ঞ স্কুলশিক্ষক রয়েছেন। আগামী জুলাইয়ের মধ্যে কাজ শেষ করে মুদ্রণের প্রস্তুতি নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কিছু বিষয়ভিত্তিক বইও যুক্ত করা হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘খেলাধুলা ও সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণিতে পরীক্ষামূলকভাবে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ নামে নতুন বই চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল শিক্ষার ওপরও নতুন বই আনা হবে।

আইসিটি বইগুলোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনার কথা জানিয়েছে এনসিটিবি। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির বইয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

এনসিটিবি চেয়ারম্যান বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও ব্যবহারিক ও শিক্ষার্থী-বান্ধব করতে ‘অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষা’ পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বইয়ের সংখ্যা কমবে এবং বাস্তবভিত্তিক শিক্ষার সুযোগ বাড়বে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, ২০২৭ সালের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা সংশোধিত, নির্ভুল ও আধুনিক পাঠ্যপুস্তক হাতে পাবে।

সূত্র: বাসস