
ফাইল ছবি
দেশে হঠাৎ করেই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে হামের প্রকোপ। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর খবর আসছে। গত ৬৮ দিনে এই রোগে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৫০০-এর কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।
পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করে বলা হচ্ছে, সারা দেশে ইতিমধ্যে পর্যাপ্ত হামের টিকা সরবরাহ করা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে এই পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ ২২ মে পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪৯৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে ৮৫ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে বলে প্রমাণিত হয়েছে, আর বাকি ৪১৪ জনের শরীরে হামের তীব্র উপসর্গ ছিল।
বিভাগভিত্তিক মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবার হামের প্রকোপ ও মৃত্যু সবচেয়ে বেশি রাজধানী ঢাকায়। ঢাকা বিভাগে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে সর্বোচ্চ ২১০ জন রোগী মারা গেছেন, যার মধ্যে ৫০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হামে।
অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহীতে ৮১ জন, চট্টগ্রামে ৫০ জন, বরিশালে ৪৮ জন এবং সিলেটে ৪৮ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহ বিভাগে ৩৬ জন এবং খুলনা বিভাগে ২১ জন মারা গেছেন। তবে রংপুর বিভাগে তুলনামূলকভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম, সেখানে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৩২৯ জন। তবে একই সময়ে সন্দেহভাজন বা হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা একলাফে দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৫৪০ জনে।
উল্লেখিত এই সময়ের মধ্যে হামের তীব্র জটিলতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৭ হাজার ৫১১ জন রোগী। এর মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন ৪৩ হাজার ৪১১ জন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে শিশুদের দ্রুত হামের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো উপসর্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।











































