শনিবার । মে ২৩, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক খেলা ২৩ মে ২০২৬, ৯:৩৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

বিশ্বকাপ স্পেশাল

যেসব তারকাকে দেখা যাবে না এবারের বিশ্বকাপে


Victor Osimhen

উত্তর আমেরিকায় বসতে যাচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬। বিশ্বের সেরা তারকা ও উদীয়মান প্রতিভাদের নিয়ে জমে উঠবে এই টুর্নামেন্ট। তবে চোট কিংবা নিজ নিজ দেশের ব্যর্থতার কারণে বেশ কয়েকজন আলোচিত ফুটবলার এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে অনুপস্থিত থাকবেন।

কভারাতসখেলিয়ার স্বপ্নভঙ্গ

Georgian Khvicha

ইউরোপের অন্যতম ভয়ংকর উইঙ্গার খভিচা কভারাতসখেলিয়াকে এবার দেখা যাবে না বিশ্বকাপে। জর্জিয়া বাছাইপর্ব পেরোতে ব্যর্থ হওয়ায় প্যারিস সেন্ট-জার্মেইনের এই তারকা উত্তর আমেরিকাগামী বিমানে উঠতে পারছেন না। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুর্দান্ত মৌসুম কাটালেও বিশ্বকাপে অভিষেকের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো তার।

বিশ্বকাপে নেই লেভানদোভস্কি

Robert Lewandowski
পোল্যান্ডের বিশ্বকাপে না ওঠার হতাশার সঙ্গে জড়িয়ে আছে রবার্ট লেভানদোভস্কির নামও। ৩৭ বছর বয়সী বার্সেলোনা স্ট্রাইকার দেশের হয়ে ১৬৫ ম্যাচে ৮৯ গোল করেছেন, যা পোল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বাছাইপর্বে ব্যর্থতার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি। ২০২২ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোতে ওঠাই ছিল তার সেরা অর্জন।

জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মা ও সান্দ্রো তোনালি

Gianluigi and Tonali
বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কাছে প্লে-অফে হেরে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে ইতালি। ফলে বিশ্বের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মা এবং মিডফিল্ডার সান্দ্রো তোনালিকে দেখা যাবে না ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে। ২০১৪ সালের পর থেকে ইতালি আর কোনো বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি।

ওসিমেন-লুকমান ছাড়া নাইজেরিয়া

Osimhen and Lookman
আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল নাইজেরিয়াও বিশ্বকাপের টিকিট পায়নি। প্লে-অফে কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছে সুপার ঈগলসদের। ফলে তারকা স্ট্রাইকার ভিক্টর ওসিমেন এবং উইঙ্গার আদেমোলা লুকমানকে বিশ্বকাপে দেখা যাবে না। আফ্রিকান ফুটবলের এই জনপ্রিয় জুটির অনুপস্থিতি নিঃসন্দেহে বড় ক্ষতি।

চোটে শেষ একিতিকের বিশ্বকাপ স্বপ্ন

Ekitike
ফ্রান্সের তরুণ ফরোয়ার্ড হুগো একিতিকে বিশ্বকাপে অভিষেকের খুব কাছাকাছি ছিলেন। কিন্তু এপ্রিল মাসে লিভারপুলের হয়ে খেলতে গিয়ে অ্যাকিলিস টেনডনে গুরুতর চোট পান তিনি। দীর্ঘমেয়াদি এই ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন ২৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার। চলতি মৌসুমে ১৭ গোল করে ফরাসি কোচ দিদিয়ে দেশঁর নজরে এসেছিলেন তিনি।

ব্রাজিলের বড় দুই ধাক্কা

Rodrygo

উইঙ্গার রদ্রিগো

ব্রাজিলের তরুণ সেনসেশন এস্তেভাও হ্যামস্ট্রিংয়ের গুরুতর চোটে বিশ্বকাপ মিস করছেন। চেলসির হয়ে প্রথম মৌসুমেই নজর কেড়েছিলেন ১৯ বছর বয়সী এই উইঙ্গার। ব্রাজিলের নতুন কোচ কার্লো আনচেলত্তির পরিকল্পনাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তার।

অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের উইঙ্গার রদ্রিগো হাঁটুর মেনিস্কাস ও এসিএল ছিঁড়ে যাওয়ায় দীর্ঘ সময়ের জন্য মাঠের বাইরে। ফলে ২০২২ বিশ্বকাপে খেলা এই তারকাও থাকছেন না এবারের আসরে।

নেদারল্যান্ডসের সিমন্সও ছিটকে গেছেন

Simons
টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে খেলতে গিয়ে এসিএল ইনজুরিতে পড়েছেন জাভি সিমন্স। ২৩ বছর বয়সী এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডার নেদারল্যান্ডস দলের অন্যতম ভরসা হিসেবে বিবেচিত ছিলেন। তবে গুরুতর চোট তার বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে।

ক্যামেরুনের হতাশা, এমবেউমোরও

Mbeumo
আফ্রিকার সর্বাধিক বিশ্বকাপ অংশগ্রহণকারী দেশ ক্যামেরুনও বাছাইপর্ব পেরোতে পারেনি। কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রের কাছে হেরে বিদায় নেওয়ায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড ব্রায়ান এমবেউমোর বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নও ভেঙে গেছে। ক্লাব ফুটবলে ভালো পারফরম্যান্স করলেও জাতীয় দলের ব্যর্থতা তাকে বিশ্বমঞ্চ থেকে দূরে রেখেছে।

আরও যাঁরা থাকছেন না
চোটের কারণে স্পেনের ফেরমিন লোপেস, জার্মানির সের্জ গ্নাব্রি, জাপানের তাকুমি মিনামিনো ও কাওরু মিতোমা বিশ্বকাপ মিস করছেন।

ইংল্যান্ডের কোচ কোল পামার ও ফিল ফোডেনকে দলে রাখেননি। ব্রাজিলের ডিফেন্ডার এদের মিলিতাও অস্ত্রোপচারের পর পুরোপুরি ফিট না হওয়ায় বাদ পড়েছেন। একই সঙ্গে ফরোয়ার্ড জোয়াও পেদ্রো ও রিচার্লিসনও জায়গা পাননি ব্রাজিল দলে।

এদিকে স্লোভেনিয়া বিশ্বকাপে উঠতে না পারায় গোলরক্ষক ও অধিনায়ক ইয়ান ওব্লাককে দেখা যাবে না আসরে। একই কারণে হাঙ্গেরির তারকা মিডফিল্ডার ডমিনিক সোবোসলাইও বিশ্বকাপের বাইরে থাকছেন।

বড় তারকাদের অনুপস্থিতিতে অন্যরকম বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ বিশ্বের অসংখ্য তারকা ফুটবলার মাঠে নামলেও খভিচা কভারাতসখেলিয়া, রবার্ট লেভানদোভস্কি, জিয়ানলুইজি ডোনারুম্মা, ভিক্টর ওসিমেন, রদ্রিগো কিংবা জাভি সিমন্সের মতো খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতি ফুটবলপ্রেমীদের জন্য বড় আক্ষেপ হয়ে থাকবে। তবু নতুন নায়কদের খোঁজে এবং পুরোনো তারকাদের লড়াই দেখতে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি সমর্থকের চোখ থাকবে উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপের দিকে।