
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ ইরানে মার্কিন সামরিক হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে কমেছে সোনার দাম। একই সঙ্গে তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে স্পট সোনার দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩৭ দশমিক ১০ ডলারে নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাকটিভ ট্রেডস’-এর সিনিয়র অ্যানালিস্ট রিকার্ডো ইভানজেলিস্তা এই পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, “তেলের দাম বাড়ায় বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়েছে। ফলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার ওপর একটি বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, আপাতত সোনার দামের এই নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্যের দিকে গভীর নজর রাখছেন।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম লম্বা সময় ধরে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে রাখতে পারে। সাধারণত স্বর্ণকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হলেও, উচ্চ সুদের হারের প্রবণতা স্বর্ণের বাজারের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
তবে দীর্ঘমেয়াদে সোনার বাজার নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক ‘ইউবিএস’। চলতি বছরের শেষ নাগাদ সোনার দাম নিয়ে নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের বছর শেষে বিশ্ববাজারে পূর্বাভাস দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫০০ ডলারে গিয়ে পৌঁছাতে পারে। ইউবিএস জানায়, বিশ্বজুড়ে ঋণের চাপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজেট ঘাটতির প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদে পূর্বাভাস মতো নিরাপদ সম্পদের চাহিদা ও মূল্য বাড়িয়ে রাখবে।
এদিকে পূর্বাভাস পাশাপাশি বিশ্ববাজারে আজ অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামেও মন্দাভাব দেখা গেছে। মঙ্গলবার স্পট সিলভারের (রুপা) দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭৬ দশমিক ৩৭ ডলারে নেমেছে। এছাড়া প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে ১ দশমিক ৭ শতাংশ।













































