মঙ্গলবার । মে ২৬, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ২৬ মে ২০২৬, ৯:২৮ অপরাহ্ন
শেয়ার

দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে বাজারে এলো ‘ট্রাম্প মোবাইল’


trump-phone

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ব্যবহারকারীদের হাতে পৌঁছাতে শুরু করেছে বহুল আলোচিত ‘ট্রাম্প মোবাইল টি১’। প্রাথমিক পর্যায়ে ডিভাইসটি সীমিত সংখ্যক প্রযুক্তি সাংবাদিক এবং প্রি-অর্ডার করা গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে জানা গেছে।

ট্রাম্প মোবাইলের প্রধান নির্বাহী (সিইও) প্যাট ও’ব্রায়েন আগেই জানিয়েছিলেন যে মে মাসের মাঝামাঝি থেকে ফোনটি শিপিং শুরু হবে। বাস্তবেও সেই সরবরাহ প্রক্রিয়া আংশিকভাবে শুরু হয়েছে বলে প্রযুক্তিবিষয়ক মার্কিন গণমাধ্যম ম্যাশেবল-এর এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে এই ডিভাইসটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। তখন এটিকে সম্পূর্ণ ‘গোল্ড কালার এবং মেইড ইন আমেরিকা’ অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন হিসেবে বাজারজাত করা হয়েছিল, যার দাম নির্ধারণ করা হয় ৫০০ মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ৬২ হাজার টাকা)। তবে ঘোষণার পর থেকেই এর ‘মেইড ইন আমেরিকা’ দাবি নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন ওঠে এবং প্রি-অর্ডার ও ডেলিভারি সময়সূচি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ফোনটির প্রকৃত উৎপাদন আসলে কোথায় হয়েছে—তা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। সাম্প্রতিক প্রাথমিক আনবক্সিং প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ফোনটির প্যাকেজিংয়ে ‘মেইড ইন ইউএসএ’ নয়, বরং ‘অ্যাসেম্বলড ইন দ্য ইউএসএ’ (যুক্তরাষ্ট্রে সংযোজিত) লেখা রয়েছে।

প্রাথমিক হ্যান্ডস-অন ও আনবক্সিং রিভিউ অনুযায়ী, ট্রাম্প ফোনে রয়েছে একটি ৬.৭৮ ইঞ্চির অ্যামোলেড ডিসপ্লে, ৫১২ জিবি বিশাল ইন্টারনাল স্টোরেজ, ৫০০০ এমএএইচ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যাটারি এবং একটি ৫০ মেগাপিক্সেলের ফ্রন্ট ক্যামেরা। ডিভাইসটিতে একটি অক্টা-কোর প্রসেসর ব্যবহার করা হয়েছে, যা কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন ৭ জেন ৩ সিরিজের হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আধুনিক ফ্ল্যাগশিপ ফোনগুলোতে ৩.৫ এমএম হেডফোন জ্যাক বাদ দেওয়া হলেও, ট্রাম্প ফোনে এই ফিচারটি রাখা হয়েছে—যা বর্তমান বাজারে বেশ বিরল। তবে পারফরম্যান্সের দিক থেকে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন হলো, এটি ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যম সারির (মিড-রেঞ্জ) অ্যান্ড্রয়েড ফোনগুলোর সমতুল্য।

সফটওয়্যারের ক্ষেত্রে ডিভাইসটিতে প্রি-ইনস্টলড বা আগে থেকেই যুক্ত করা অবস্থায় রয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাপ। জমকালো গোল্ডেন ডিজাইন ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিংয়ের কারণে এটি বাজারে আসার আগেই ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

তবে ফোনটি ঘিরে বিতর্কের শেষ নেই। ডিভাইসটির আগ্রাসী মার্কেটিং, প্রশ্নবিদ্ধ উৎপাদন দাবি এবং ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি ও ডাটা হ্যান্ডলিং (তথ্য সুরক্ষা) নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রযুক্তি বিশ্বে নানা বিতর্ক ও উদ্বেগের জন্ম হয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এটি মূলত একটি সম্পূর্ণ ব্র্যান্ড-চালিত স্মার্টফোন উদ্যোগ, যেখানে হার্ডওয়্যারের শক্তিশালী কার্যক্ষমতার চেয়ে রাজনৈতিক ও মিডিয়া ব্র্যান্ডিংকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।