
ছবি: সংগৃহীত
হামজা দেওয়ান চৌধুরী এসে বদলে দিয়েছেন বাংলাদেশ ফুটবলের চেনা আবহ। এরপর সামিত সোম, ফাহমিদুল ইসলাম কিংবা সুলিভান ভাইদের মতো প্রবাসী ফুটবলাররা যোগ দিয়ে দেশের ফুটবলে নতুন জাগরণ তৈরি করেছেন। এবার সেই ধারাবাহিকতায় লাল-সবুজের জার্সিতে মাঠ কাঁপাতে নতুন সংযোজন হতে যাচ্ছেন ইংল্যান্ডে খেলা আরও দুই ভাই ফারহান আলি ওয়াহিদ এবং রায়ান আলি ওয়াহিদ।
ইংল্যান্ড প্রবাসী এই দুই সহোদর বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলার জন্য আনুষ্ঠানিক সম্মতি জানিয়েছেন বলে আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) এক বিশেষ ভিডিও বার্তায় নিশ্চিত করেছেন বাফুফে সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম।
ভিডিও বার্তায় বাফুফে সহ-সভাপতি জানান, গত মাসে দুই ভাইয়ের ফুটবল এজেন্ট অ্যাডাম রবার্টস বাফুফের অফিশিয়াল ইমেইলে যোগাযোগ করে ফারহানের বাংলাদেশের হয়ে খেলার আগ্রহের কথা জানান। ইমেইলটি বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের মাধ্যমে টেকনিক্যাল কমিটির কাছে আসে।
ফাহাদ করিম জানান, ওই সময় তারা কানাডায় ফিফা ও এএফসি কংগ্রেসে ছিলেন। সেখান থেকেই বাফুফে প্রেসিডেন্টের অনুমতি নিয়ে এজেন্ট এবং দুই ভাইয়ের বাবা আব্দুল ভাইয়ের সাথে জুম মিটিং করা হয়। দল নিয়ে বাফুফের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা শোনার পর আব্দুল ভাই তার দুই ছেলেকেই বাংলাদেশের পক্ষে খেলার জন্য চূড়ান্ত সম্মতি দেন।
বাফুফে সূত্রে জানা গেছে, দুই ফুটবলারের সব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। ঈদুল আজহার পরই তাদের কাজ সম্পন্ন হবে এবং আগামী জুলাইয়ের মধ্যে পাসপোর্ট সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে জানিয়েছে বাফুফে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর উইন্ডোতে বড় ভাই ফারহানকে জাতীয় দলে এবং পরবর্তী সময়ে নভেম্বরের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে খেলানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আর ছোট ভাই রায়ানকে বাংলাদেশের অনূর্ধ্ব-২০ বা অনূর্ধ্ব-২৩ এর মতো বয়সভিত্তিক দলগুলোতে যুক্ত করা হবে।
খেলোয়াড়দের প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চেলসির যুব একাডেমি থেকে ক্যারিয়ার শুরু করা বড় ভাই ফারহান আলি ওয়াহিদ বর্তমানে ফুলহ্যামের হয়ে অনূর্ধ্ব-২১ প্রিমিয়ার লিগ-২ এ খেলছেন। ডান পায়ে খেলা এই লেফট উইঙ্গার গোল করা এবং অ্যাসিস্ট করায় দারুণ পারদর্শী। তিনি মে মাসের সেরা প্রিমিয়ার লিগ-২ ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং এবার ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিজন’ নমিনেশনের তালিকাতেও রয়েছেন।
অন্যদিকে তার ছোট ভাই রায়ান আলী ওয়াহিদ মূলত একজন অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার, যিনি বর্তমানে খেলছেন ওকিং এফসির হয়ে। বাফুফের আশা, ওয়াহিদ ব্রাদার্সের এই অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশ দলের আক্রমণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে এবং খুব শিগগিরই দেশের ফুটবলপ্রেমীরা এই দুই ভাইকে লাল-সবুজের জার্সি গায়ে মাঠে দেখতে পাবেন।














































