
ছবি : সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্যসহ তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ইয়াসিন নামের আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যা ও রাতে উপজেলার দুটি আলাদা এলাকায় এই দুর্ঘটনাগুলো ঘটে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন—ভৈরব উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের এমাদ মিয়ার ছেলে আশিক (২০), কুলিয়ারচর উপজেলার কান্দিগ্রাম এলাকার সিদ্দিক মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া (১৮) এবং উপজেলার গোবরিয়া-আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর ভাটিপাড়া গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আব্দুস সাত্তার (৫৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের মধূয়ারচর এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে বিপরীতমুখী একটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিন আরোহী ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে বাজিতপুরের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক আশিক ও রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন। এ দুর্ঘটনায় আহত ইয়াসিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এর আগে, একই দিন সন্ধ্যার দিকে উপজেলার ডুমরাকান্দা-দাড়িয়াকান্দি সড়কের একটি নির্মাণাধীন কালভার্টের গর্তে মোটরসাইকেল পড়ে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য আব্দুস সাত্তার নিহত হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্মাণাধীন কালভার্ট এলাকায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক লাল পতাকা কিংবা কোনো সাইনবোর্ড বা নির্দেশক দেওয়া হয়নি। ফলে সন্ধ্যার অন্ধকারে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি কালভার্টের গভীর গর্তে পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই ওই সাবেক সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়।
ভৈরব হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার চৌধুরী দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মধূয়ারচর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। তিনি আরও জানান, দুটি দুর্ঘটনার ক্ষেত্রেই মরদেহের সুরতহাল শেষে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার শিকার যানবাহনগুলো বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।













































