শুক্রবার । জুন ১২, ২০২৬
স্পোর্টস ডেস্ক ওয়ার্ল্ডকাপ গোল গ্রাফ ১২ জুন ২০২৬, ১:২৭ অপরাহ্ন
শেয়ার

বিশ্বকাপে নজর থাকবে যাদের ওপর


wORLD cUP STAR player

উৎসবের উপলক্ষ হয়ে বিশ্বকাপ আসে। একটা সময় তা শেষও হয়ে যায়। তবে প্রতিটি আসরই তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য জানান দেয়। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, প্রায় প্রতিটি বিশ্বকাপ আসরই একজন করে কিংবদন্তি রেখে গেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের জন্য উপহার দিয়ে গেছে সম্ভাবনাময় তারকা। ২০২৬ বিশ্বকাপেও নিশ্চয়ই এর ব্যতিক্রম ঘটবে না। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর বিভিন্ন ভেন্যুতে কেউ কেউ শেষবারের মতো বিশ্বকাপ রাঙাতে চাইবেন। আবার তরুণরা উন্মুখ হয়ে থাকবেন বিশ্বমঞ্চে নিজেদের জাত চেনাতে। মেসি, রোনালদো ছাড়াও এবার বিশ্বকাপে নজর থাকবে যাদের ওপর তাই দেখে নেওয়া যাক-

Embappe

কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স)
ধরতে গেলে মেসি-রোনালদোর পরের প্রজন্মের প্রতিনিধি কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার যখন আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক, ততদিনে মেসি-রোনালদো গোটা একটা দশক রাঙিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু অর্জনের দিক থেকে একজন এমবাপ্পে কম কিসে! ২০১৮ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। ২০২২ বিশ্বকাপে জিতেছেন গোল্ডেন বুট। ফুটবলের ভবিষ্যৎ ব্যাটনটা তার হাতেই। এখন তার বয়স ২৭। খেলোয়াড়দের বেলায় বয়সের দিক থেকে পরিণত যাকে বলে। এমনিতেই চিতার মতো গতি তার। এখন তো আরও ক্ষুধার্ত। সঙ্গে আত্মবিশ্বাসও। কাতারে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে রোমাঞ্চ ও নাটকভরা ফাইনালে হেরে রানার্সআপ হতে হয়েছিল। এবার নিশ্চয়ই সেই জ্বালা জুড়াতে চাইবেন। ফ্রান্সের আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা হয়েই বিশ্বকাপ ময়দানে পা রাখবেন তিনি। বড় মঞ্চে যে তিনি একাই ম্যাচের রং বদলে দিতে পারেন, তার উদাহরণ আছে অহরহ। যদিও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সর্বশেষ ক্লাব মৌসুমে লা লিগা বা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে পারেননি। কে জানে, বিশ্বকাপ দিয়েই হয়তো সেই জ্বালা জুড়াবেন।

Haland

আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে)
তার পদধূলি পেতে স্বয়ং বিশ্বকাপই অধীর অপেক্ষায়! আর্লিং হালান্ডকে নিয়ে এভাবে বলাই যায়। বরুসিয়া ডর্টমুন্ড থেকে ম্যানচেস্টার সিটি, গত বছর ছয়েক ধরেই ইউরোপীয়ান ক্লাব ফুটবলে আলোচিত এক নাম হালান্ড। ২০২২ সালে সিটিতে যোগ দেওয়ার পর তাঁর ধার যেন আরও বেড়েছে। দলগতভাবে প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পাশাপাশি নিজে উয়েফার সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন। কিন্তু বিশ্বকাপে খেলা এতদিন তার জন্য অপেক্ষার নাম হয়ে ছিল। সেই অপেক্ষাই এবার ফুরোতে যাচ্ছে।

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবারও বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেছে নরওয়ে। এই যাত্রায় দলটিকে প্রায় একাই টেনেছেন হালান্ড। তার বাবা আলফি হালান্ড ১৯৯৮ সালে নরওয়ের সর্বশেষ বিশ্বকাপ দলে ছিলেন। ছেলে এখন সেই একই অধ্যায় রচনা করার পথে। দল হিসেবে যদিও নরওয়েকে নিয়ে বাজি ধরার লোক খুব বেশি থাকবে না। তবে একজন হালান্ডের দিকে দৃষ্টি থাকবেই।

yamal

লামিনে ইয়ামাল (স্পেন)
প্রথমবার বিশ্বকাপে পা পড়বে বার্সেলোনা তারকা লামিনে ইয়ামালেরও। ১৮ বছর বয়সী এই ফুটবলারকে নিয়ে প্রত্যাশা তুঙ্গে। তার দল স্পেনের হাতে এবার বিশ্বকাপ ট্রফি দেখছেন অনেকে। একই সঙ্গে ইয়ামালকে দেখছেন ফুটবলের আসছে প্রজন্মের সম্ভাব্য কিংবদন্তি হিসেবে। হুট করেই যে এমন আলোচনায় তিনি, বিষয়টা তেমন নয়। মাত্র ১৫ বছর বয়স থেকেই লিওনেল মেসির সঙ্গে তার তুলনা চলছে। এখন মেসির শৈশবের ক্লাব বার্সেলোনার প্রাণভোমরাদের একজনও তিনি। ২০২৪ সালে দেশকে ইউরো শিরোপা জেতাতে বড় ভূমিকা ছিল ইয়ামালের। জিতে নিয়েছিলেন সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের পুরস্কার। এবার বিশ্বকাপের পালা। বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ বলছেন, এবারই প্রমাণ হবে ইয়ামালকে ঘিরে বিভিন্ন বিশেষণ বা তুলনাগুলো সত্য কিনা। পারবেন কি ইয়ামাল?

vinisius jr

ভিনিসিউস জুনিয়র (ব্রাজিল)
নিজ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ কিংবা দেশ ব্রাজিল, দুই ক্ষেত্রেই ভিনিসিউস জুনিয়র অটোমেটিক চয়েজ। ২৫ বছর বয়সী এই উইঙ্গার রিয়ালের হয়ে ক্লাব ফুটবলের প্রায় সব বড় ট্রফি জয় করেছেন। ২০২৪ সালে ফিফার বর্ষসেরা পুরুষ খেলোয়াড় ও ব্যালন ডি’অর রানার্সআপ হন। বড় মঞ্চে কত ম্যাচের রং যে তিনি বদলে দিয়েছেন। এই মুহূর্তে ফুটবলের ভয়ঙ্কর গেম চেঞ্জারদের ছোট তালিকা করলে নিশ্চিতভাবেই যে কেউ ‘ভিনি’কে রাখবেন। অপ্রতিরোধ্য গতির সঙ্গে শিল্পের মিশেলে কর্মপুট এক প্যাকেজ তিনি। কার্লো আনচেলত্তি সত্যিই যদি নেইমারকে বাইরে রেখে স্কোয়াড সাজান, তবে ব্রাজিল দলের প্রধান আকর্ষণ হবেন ভিনিসিউসই। নেইমার থাকলেও অবশ্য ‘ভিনি’ ম্লান হবেন না। এখন প্রশ্ন একটাই, বিশ্বজুড়ে ব্রাজিল ভক্তদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারেন তো তিনি? সেই ২০০২ সালের পর আর কোনো ট্রফির দেখা পায়নি দলটি। দেশটির একটা প্রজন্ম বেড়ে উঠেছে বিশ্বকাপের ছোঁয়া ছাড়া। দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া ভিনিসিউস নিশ্চিতভাবেই এই আক্ষেপ দূর করতে চাইবেন।

belinghum

জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড)
২৩ বছর বয়সেই ইংল্যান্ডের মাঝমাঠের বড় ভরসার নাম জুড বেলিংহাম। বয়সের তুলনায় যিনি আরও অনেক বেশি পরিণত বলা চলে। ইংল্যান্ডের ৬০ বছর বিশ্বকাপ তথা বড় কোনো ট্রফির খরা ঘোচানোর পথে বড় ভরসা হতে পারেন তিনি। ২০২৩ সালে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর চ্যাম্পিয়নস লিগ ও লা লিগা, উভয় শিরোপার দেখাই পেয়েছেন বেলিংহাম। ২০২০ সালে ইংল্যান্ডের জার্সি গায়ে জড়ানো এই মিডফিল্ডার এর মধ্যে ৪০টিরও বেশি ম্যাচে থ্রি লায়ন্সদের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০২৪ ইউরোতে তিনি দলকে ফাইনালে নিয়ে যান এবং একই সঙ্গে নিজেকে অন্যতম মিডফিল্ডার হিসেবে দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেন। অবশ্য ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেলের সঙ্গে বেলিংহামের শীতল সম্পর্কও নানা সময়ে আলোচনার বিষয় হয়ে থাকে। তবে ইংল্যান্ড এবারের বিশ্বকাপে সাফল্যের পথে হাঁটতে চাইলে সেরা ছন্দের বেলিংহামকে লাগবেই।

pedri

পেদ্রি (স্পেন)
বরাবরের ছন্দময় ফুটবলের জন্য সমাদৃত স্পেন। দেশটি তাদের সেরা প্রজন্মের হাত ধরেই ১৬ বছর আগে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ঘরে তোলে। দেশটির বর্তমান প্রজন্মের ব্যাটনটা যাদের হাতে পেদ্রি তাদের অন্যতম। জাতীয় দল ও ক্লাব বার্সেলোনা, উভয় ক্ষেত্রেই মাঝমাঠে জাভি হার্নান্দেজের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন ২৩ বছর বয়সী পেদ্রি। ২০২০ ইউরোপে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই সবার নজর কাড়েন তিনি। দলকে সেবার সেমিফাইনালে নিয়ে যান। ২০২৪ সালে চোটের সঙ্গে যুদ্ধ করেও দেশকে ইউরো ট্রফিই উপহার দিয়েছেন। মাঝে খেলেছেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেও। যদিও সেবার শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিয়েছিল স্পেন। তবে একজন পেদ্রি যে স্পেন দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেটা প্রমাণ করেছ দেশটির সবচেয়ে বড় প্রতিযোগিতাগুলোই।

এবারও স্পেনের কমার্স কেন্দ্রে থাকবেন পেদ্রি। বার্সেলোনার হ্যান্সি ফ্লিকের কোচিং চোট সমস্যাটা বেশ ভালোভাবেই কাটিয়ে উঠেছেন তিনি। জিতেছেন টানা দুটি লা লিগা শিরোপা। পেদ্রি নিজেও হয়তো এবারের বিশ্বকাপ বিশেষ কিছুর জন্য জমিয়ে রাখবেন।

Usman

উসমান ডেম্বেলে (ফ্রান্স)
বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ এরই মধ্যে একবার পেয়ে গেছেন উসমান ডেম্বেলে। ফ্রান্সের ২০১৮ বিশ্বকাপ জয়ী দলে ছিলেন বর্তমানে ২৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। ক্লাব ক্যারিয়ারেও অর্জনের ঝুলিতে আছে অনেক কিছু। স্পেনের হয়ে লা লিগা, পিএসজির হয়ে লিগ ওয়ান জয়ের পর পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ের স্বাদও পেয়েছেন তিনি। লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকাদের সঙ্গে খেলেও নিজেকে আলাদাভাবে চিনিয়েছেন। এমনকি সব সুপারস্টাররা অন্যত্র চলে যাওয়ার পর পিএসজি যে আরাধ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপার দেখা পেল, সেই পথে বড় নাম তো একজন ডেম্বেলেই। সুবাদে ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অর ও ফিফা দ্য বেস্ট এর সেরা পুরুষ খেলোয়াড়ের খেতাব জিতেছেন তিনি। সর্বশেষ মৌসুমের শুরুতে যদিও চোটের কারণে ভুগতে হয়েছে। তবে এ বছরের শুরু থেকে আছেন দারুণ ছন্দে। ক্লাব ফুটবলে লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের মতো তারকার পাশে থেকেও নিজেকে আলাদাভাবে চেনানো ডেম্বেলের জন্য এবারের বিশ্বকাপ নিজেকে আরও উপরে নিয়ে যাওয়ার।

herry kein

হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড)
প্রায় এক দশক ধরে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ডদের একজন হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ড ফুটবল দলেরও ভরসার মুখ। তার হাত ধরে একটি মেজর ট্রফির দিকে তাকিয়ে থ্রি লায়ন্সরা। পর পর দুটি ইউরোতে অবশ্য হৃদয় ভেঙেছে তার। ২০২০ ইউরোর ফাইনালে ইতালি ও ২০২৪ ইউরোর ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হারতে হয় ইংল্যান্ডকে। বিশ্বকাপে সেই আক্ষেপ দূর করতে পারবেন কেইন? সদ্য শেষ হওয়া মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দারুণ ছন্দে ছিলেন ৩২ বছর বয়সী স্ট্রাইকার। দেশের হয়ে একটা মেজর ট্রফি তো জিততেই চাইবেন তিনি।

bruno

ব্রুনো ফার্নান্দেজ (পর্তুগাল)
ক্লাব ফুটবলের কথায় আসলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়টির নাম ব্রুনো ফার্নান্দেজ। পর্তুগাল জাতীয় দলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর মতো তারকা আছেন। তবে রোনালদোর যে স্বপ্নে পথে ছুটছেন, সেই পথে ভরসা নির্ভরতা জাগানো এক নাম ব্রুনো ফার্নান্দেজ। ২০২৫ সালে দেশটির নেশনস লিগ জয়ের ক্ষেত্রে যা প্রমাণ হয়েছে। ৩১ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার এবারের বিশ্বকাপেও পর্তুগালের আশা ভরসার কেন্দ্রে থাকবেন।

martinez

এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (আর্জেন্টিনা)
কাতার বিশ্বকাপের সেই ‘বাজ পাখি’ এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে সময়ের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পোস্টের নিচে তার আত্মবিশ্বাস, শট ঠেকানোর ক্ষমতা, পেনাল্টি শুটআউটের সময়ে মনস্তাত্ত্বিক কৌশল তাকে অদ্বিতীয় রত্নে পরিণত করেছে। ইংলিশ ক্লাব অ্যাস্টন ভিলার এক অপরিহার্য খেলোয়াড় তিনি। কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনার অন্যতম ত্রাতা ছিলেন ‘এমি’। গোল্ডেন গ্লাভসটা উঠেছিল তার হাতেই। আর্জেন্টিনাকে ২০২৪ কোপা আমেরিকা জেতাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। আরও একটি বিশ্বকাপ জিতে নিতে পারলে হয়তো কিংবদন্তিদের কাতারেই জায়গা পেয়ে যাবেন এই গোলরক্ষক।

alvarez

হুলিয়ান আলভারেজ (আর্জেন্টিনা)
২০২২ বিশ্বকাপে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন হুলিয়ান আলভারেজ। কাতার বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়ে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেন তিনি। ইংলিশ ক্লাবটির হয়ে লিগ শিরোপা ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতে পাড়ি দেন আতলেতিকো মাদ্রিদে। স্পেনের ক্লাবটির হয়ে গত দুই মৌসুমে এরই মধ্যে ৪০ গোলের ল্যান্ড মার্ক ছুঁয়ে ফেলেছেন। বলা যায়, ২৬ বছর বয়সী এই তারকা এবার আরও পরিণত হয়েই বিশ্বকাপে পা রাখতে চলেছেন।

hakimi

আশরাফ হাকিমি (মিশর)
এই সময়ের অন্যতম ফুলব্যাক আশরাফ হাকিমি। ফরাসি ক্লাব পিএসজিকে ২০২৫ সালেই আরাধ্য চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ট্রফিটা উপহার দিয়েছেন। তার দেশ মরক্কো ২০২২ বিশ্বকাপে বিস্ময় জাগানিয়া ফল উপহার দিয়েছিল। আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলেছিল হাকিমির দল। যেখানে হাকিমি দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সামনে থেকে। মিশর অধিনায়ক এবারও কি তেমন কোনো গল্প লিখতে পারবেন?

jamal

জামাল মুসিয়ালা (জার্মানি)
২১ বছর বয়সেই জার্মানির সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হয়েছেন জামাল মুসিয়ালা। বায়ার্ন মিউনিখের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডারের ড্রিবলিং দক্ষতা তুখাড় বলা চলে। বায়ার্নের হয়ে ৬টি বুন্দেসলিগার পাশাপাশি একটি করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, উয়েফা সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন। এবার কি বিশ্বকাপটাও বাগিয়ে নিবেন? পর পর দুই বিশ্বকাপে (২০১৮ ও ২০২২) হতাশা করা জার্মানির সমর্থকরা তাকিয়ে থাকবেন একজন জামাল মুসিয়ালার দিকেই।

গাভি (স্পেন)
স্পেনের মাঝ মাঠের অন্যতম প্রাণশক্তি গাভি। ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার আক্রমণের সুর বেধে দেওয়ার কাজ করেন নিপুণভাবে। বার্সেলোনার হয়ে জিতেছেন টানা দুটি লিগ শিরোপা। ২০২১ সাল থেকে তিনি স্পেনের জার্সিতে খেলছেন। ২০২৩ সালে নেশনস লিগ জয়ী দলের সারথি ছিলেন। পেদ্রি সঙ্গে তার জুটিকে স্পেনের ভবিষ্যৎ মেরুদণ্ড হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

andrik

এনড্রিক (ব্রাজিল)
বছর দুয়েক ধরেই আলোচনায় ব্রাজিলের তরুণ তুর্কি এনড্রিক। সব ঠিক থাকলে ১৯ বছর বয়সে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ খেলবেন তিনি। অবশ্য তার পথটা সহজভাবে এগোয়নি। ছোট ক্যারিয়ারেই দেখে ফেলেছেন চড়াই-উতরাই। ১৬ বছর বয়সে দেশের ক্লাব পালমেইরাসের হয়ে অভিষেক। ১৮ পূর্ণ করার আগেই যোগ দেন রিয়াল মাদ্রিদে। ‘পিলগ্রিমস’ তারকাদের ভিড়ে খুব বেশি সুযোগ জুটছিল না। এ বছরের শুরুতে ধারে ফরাসি ক্লাব লিয়ঁতে যোগ দেন। সেখানে নিজের ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন তিনি। অপেক্ষা এখন স্বপ্নের বিশ্বকাপে আলো ছড়ানোর। বছর দুয়েক আগেই যিনি রোনালদোর পর ব্রাজিলের কনিষ্ঠতম গোলকোরারের কীর্তি গড়েছেন।

duye

ডেজিরে দুয়ে (ফ্রান্স)
ক্লাব ফুটবলের বড় মঞ্চে এরই মধ্যে নিজেকে প্রমাণ করেছেন দুয়ে। গত বছর ইন্তার মিলানের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনালে জোড়া গোল করে পিএসজিকে শিরোপা উপহার দেন। জিতে নেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। এবারের বিশ্বকাপই হবে জাতীয় দলের হয়ে তার প্রথম মেজর টুর্নামেন্ট। দারুণ বর্তমান ফ্রান্স দল তো তারকায় ভরা। আক্রমণভাগে কিলিয়ান এমবাপ্পে, ব্যালিন ডি’অর জয়ী উসমান ডেম্বেলে, বায়ার্ন মিউনিখ তারকা মাইকেল অলিসদের মতো তারকা রয়েছেন। এদের ভিড়েও নিজেকে প্রমাণ করতে মরিয়া ২০ বছর বয়সী কুশীলব।

Neimar

নেইমার (ব্রাজিল)
গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে একই বন্ধনীতে নাম উচ্চারিত হয়েছে তার। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে আগে নেইমার ভক্তরা কেবলই অনিশ্চয়তার দোলাচলে দুলেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে উরুগুয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের ম্যাচে চোট পেয়ে লম্বা সময়ের জন্য ছিটকে যান তিনি। এরপর ক্লাবের জার্সিতে মাঠে ফিরলেও ব্রাজিলের হলুদ জার্সিটা আর গায়ে জড়ানো হয়নি তার। কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাকে দলে রাখেন কিনা, এ নিয়ে উদ্বিগ্ন সময়ও পার করতে হয়েছে ভক্তদের। শেষ পর্যন্ত ৩৪ বছর বয়সী তারকাকে নিয়েই বিশ্বকাপ দল সাজিয়েছেন আনচেলত্তি। নেইমার না থাকলে নিশ্চিতভাবেই বিশ্বকাপ কিছুটা হলেও রঙ হারাতো। অন্তত নেইমার ভক্তদের জন্য আসরটা হয়ে যেত বিষাদের। আর নেইমারের জন্য তো সেটা হতো হৃদয় ভাঙার গল্প। এর আগে তিনটি বিশ্বকাপে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। কিন্তু ট্রফির ছোঁয়া পাননি। অথচ একটা বিশ্বকাপ জেতা তার কতদিনের লালিত স্বপ্ন! এখন সান্তোস তারকা সেই স্বপ্নটাকেই বাস্তবে রূপ দিতে পারেন কিনা, সেটাই হবে দেখার। না পারলে নেইমারকে হয়তো ব্রাজিলের ব্যর্থ প্রজন্মের প্রতিনিধির দলে ঠেলে দেবেন সমালোচকরা।

বাংলা টেলিগ্রাফ স্পোর্টস- বিটিএস