
ছবি: সংগৃহীত
ফিফা বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্নই ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। কিন্তু চোটের নির্মম আঘাতে সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে চিরতরে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জাপানের অধিনায়ক ওয়াতারু এন্দো।
উত্তর আমেরিকায় ২০২৬ বিশ্বকাপ শুরুর আগে আকস্মিক এই অবসরের ঘোষণা দিয়ে জাপানি ফুটবলে এক আবেগঘন অধ্যায়ের সমাপ্তি টানলেন অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডার। আগামী রোববার নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে জাপান। তবে দলের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড় এন্দোকে ছাড়াই এবার মাঠে নামতে হবে ‘সামুরাই ব্লু’দের।
পায়ের চোট থেকে প্রত্যাশিত সময়ে পুরোপুরি সেরে উঠতে না পারায় শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ স্কোয়াড থেকে ছিটকে পড়েন ৩৩ বছর বয়সী এই ফুটবলার এবং এরপরই আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন।
গত ফেব্রুয়ারিতে ক্লাব ফুটবলে লিভারপুলের হয়ে সান্ডারল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়েছিলেন ওয়াতারু এন্দো। সেই গুরুতর চোটের কারণে মৌসুমের বাকি অংশ মাঠের বাইরেই কাটাতে হয় তাঁকে। দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শেষে গত ৩১ মে টোকিওতে আইসল্যান্ডের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে ফিরেছিলেন তিনি। তবে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে আবারও পায়ে অস্বস্তি অনুভব করায় আর খেলা চালিয়ে যেতে পারেননি।
তবুও বিশ্বকাপে খেলার আশা ছাড়েননি জাপানের এই লড়াকু অধিনায়ক। গত সোমবার ন্যাশভিলে দলের বেস ক্যাম্পেও যোগ দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত মেডিকেল পরীক্ষায় পুরোপুরি ফিট বিবেচিত না হওয়ায় এবারের বিশ্বকাপ দলে আর জায়গা হয়নি তাঁর।
অবসরের ঘোষণা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় এন্দো লিখেছেন, ভবিষ্যতে এমন একটি দিন অবশ্যই আসবে, যখন জাপান বিশ্বকাপ জিতবে। সেই বিশ্বাস নিয়েই সবাইকে এখন দলকে সমর্থন দিতে হবে। তিনি জানান, জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিলেও এখন থেকে একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবেই সবসময় জাপানের পাশে থাকবেন।
বিশ্বকাপে খেলতে না পারার হতাশা প্রকাশ করে এন্দো বলেন, ইনজুরির পর সুস্থ হওয়ার জন্য তিনি তাঁর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন, তাই মনে কোনো আফসোস নেই। তবে বিশ্বকাপে খেলতে না পারাটা অবশ্যই কষ্টের। এর পাশাপাশি গত কাতার বিশ্বকাপে এই দলকে নেতৃত্ব দিতে পেরে নিজের গর্বের কথা জানান তিনি। তিনি মনে করেন, তাঁরা দলে এমন একটি মানসিকতা তৈরি করতে পেরেছিলেন, যেখানে বিশ্বকাপ জেতাকেই মূল লক্ষ্য হিসেবে দেখা হয়।
২০১৫ সালে জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের পর দ্রুতই জাপানের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডারে পরিণত হন ওয়াতারু এন্দো। দেশের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ৭৩টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন। ২০১৮ ও ২০২২ সালের টানা দুই বিশ্বকাপেই জাপানের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এই মিডফিল্ডার। বিশেষ করে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি ও স্পেনকে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে আলোড়ন তোলা জাপান দলের নেপথ্য নায়ক ও অধিনায়ক ছিলেন তিনি।
২০২৬ বিশ্বকাপে ‘এফ’ গ্রুপে নেদারল্যান্ডস, সুইডেন ও তিউনিসিয়ার বিপক্ষে কঠিন লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে জাপান। তবে সেই কঠিন অভিযানে দলের ডাগআউটে বা মাঠে নয়, এবার গ্যালারির একজন সাধারণ সমর্থক হিসেবেই ডিয়ার সামুরাইদের অনুপ্রেরণা জোগাবেন ওয়াতারু এন্দো।











































