সোমবার । জুন ১৫, ২০২৬
বাংলা টেলিগ্রাফ ডেস্ক আদালত ১৪ জুন ২০২৬, ১:৩৫ অপরাহ্ন
শেয়ার

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ


Abu Sayeed July

আবু সাঈদ হত্যা মামলা: দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রোববার (১৪ জুন) প্রকাশিত ৮০৯ পৃষ্ঠার এ রায়ে পুলিশের এএসআই আমির হোসেন এবং কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়ের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়। একইসঙ্গে মামলার অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

গত ৯ এপ্রিল ঘোষণা করা সংক্ষিপ্ত রায়ের পর প্রকাশিত এই পূর্ণাঙ্গ রায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের আইনি কাঠামো, ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ার, আন্তর্জাতিক আইন এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের মূল্যায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। রায়ে ব্যক্তিগত ফৌজদারি দায়, কমান্ড রেসপনসিবিলিটি, বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ওয়াইডস্প্রেড ও সিস্টেমেটিক অ্যাটাক এবং রোম স্ট্যাটিউটসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নজির বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।

রংপুর তাজহাট থানার এই মামলার বিচার চলাকালে মূল প্রশ্ন ছিল–আবু সাঈদের মৃত্যু কি কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা, নাকি এটি বৃহত্তর মানবতাবিরোধী অপরাধের অংশ? দীর্ঘ রায়ে সেই প্রশ্নের বিশদ আইনি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করেছেন আদালত।

একটি প্রাচীন চীনা প্রবাদ–‘Every thousand miles has its first step’ উদ্ধৃত করে ট্রাইব্যুনাল রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, ‘শত্রুর জন্যও ইনসাফ’ প্রতিষ্ঠার নীতির ওপর ভিত্তি করে এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের আইনে অনুপস্থিত আসামির বিচারের (ট্রায়াল ইন অ্যাবসেন্সিয়া) যে সুযোগ রাখা হয়েছে, রায়ে তারও বিস্তর ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে।

রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়ায় ২৫ জন সাক্ষীর জবানবন্দি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ফুটেজ এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত ৪১টি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে আলাদাভাবে সাক্ষ্য ও প্রমাণ বিশ্লেষণ করে তাদের ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালতের মতে, বিচারপ্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালিত হয়েছে।

এর আগে গত ৫ মার্চ উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য দিন ধার্য করা হয়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন আবু সাঈদ।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।

এ ঘটনায় পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়।

মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ মোট ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক উপাচার্যসহ ২৪ জন বর্তমানে পলাতক।

এ মামলায় এখন পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান, সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন মো. মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো, আজিজুর রহমান দুলুসহ আরও কয়েকজন। পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া।

রায়ের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তদন্তে সন্দেহাতীত ও অকাট্য প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার আশা, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, প্রসিকিউশন অভিযোগ প্রমাণে ব্যর্থ হয়েছে এবং আসামিরা খালাস পাবেন।