রবিবার । জুন ২১, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক আন্তর্জাতিক ১৯ জুন ২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ন
শেয়ার

ইরানের ওপর থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার


hormuz

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় প্রবেশ এবং ছেড়ে যাওয়া সব ধরনের নৌযানের ওপর আরোপিত দীর্ঘদিনের অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক কমান্ড ‘সেন্টকম’ (সেন্ট্রাল কমান্ড) আনুষ্ঠানিকভাবে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, আরব উপসাগর ও ওমান উপসাগরে অবস্থিত ইরানের বন্দরগুলোতে যাওয়া কিংবা সেখান থেকে বের হওয়া বাণিজ্যিক ও সাধারণ জাহাজের চলাচলে মার্কিন বাহিনী আর কোনো বাধা সৃষ্টি করছে না।

তবে নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও মধ্যপ্রাচ্যের এই সংবেদনশীল অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও টহল অব্যাহত থাকবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে সেন্টকম। মার্কিন সামরিক এই কমান্ডের ভাষ্য, ইরানের সঙ্গে হওয়া সাম্প্রতিক সমঝোতার ‘সব দিক’ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি-না, তা পর্যবেক্ষণ ও নিশ্চিত করতেই মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ওই এলাকায় মোতায়েন থাকবে।

সাম্প্রতিক দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনার পর যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে আঞ্চলিক সামুদ্রিক বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও মুক্ত নৌ চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

এই অবরোধ প্রত্যাহারের নেপথ্যে রয়েছে একটি বড় রাজনৈতিক নাটকীয়তা। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডিজিটালভাবে (অনলাইন প্ল্যাটফর্মে) একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়।

এই বিশেষ সমঝোতায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ বন্ধ করা, লেবানন পরিস্থিতি শান্ত করা, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে এটিই চূড়ান্ত নিষ্পত্তি নয়। স্থায়ী শান্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটির ওপর থাকা অন্যান্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো জটিল বিষয়গুলো নিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক আলোচনা প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা