
মস্কোর পাশাপাশি রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর ইউক্রেন মোট ৫৫৫টি ড্রোন হামলা চালায়
রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে গেলো দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে চালানো এই হামলায় বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, একাধিক স্থানে আগুন লেগেছে এবং রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানিয়েছেন, মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যে রাজধানীমুখী ১৯৪টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে রাশিয়ার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল পর্যন্ত হামলা প্রতিহত করার অভিযান চলছিল। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মস্কোর ওপর হওয়া অন্যান্য হামলার তুলনায় এটি ছিল অনেক বড় আকারের।
নিরাপত্তাজনিত কারণে মস্কোর সব প্রধান বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রাখা হয়।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মস্কোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর ইউক্রেন মোট ৫৫৫টি ড্রোন হামলা চালায়। এর মধ্যে আজভ সাগরের ওপর দিয়েও বহু ড্রোন উড়ে আসে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে ইউক্রেন। এমন সময় এই হামলা হলো, যখন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ব্রাসেলসে ন্যাটোর মহাসচিব এবং ব্রিটেন ও জার্মানির প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন।
মস্কোর দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কাপোতনিয়া এলাকায় অবস্থিত মস্কো তেল শোধনাগারে কয়েকটি ড্রোন আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছেন মেয়র সোবিয়ানিন। চলতি সপ্তাহে একই স্থাপনায় এটি দ্বিতীয় হামলা। মঙ্গলবারও সেখানে ড্রোন হামলা হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শোধনাগারের একটি অংশ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। এরপর একটি বড় বিস্ফোরণে বিশাল জ্বালানি ট্যাংকের ছাদ আকাশে উড়ে যায়।
এদিকে মস্কোর বাইরে ঝুকভস্কি শহরের একটি আবাসিক ভবনেও ড্রোন আঘাত হেনেছে। মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, ভবনটির কিছু অংশ ও কয়েকটি বারান্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ রাজধানীর আশপাশের আরও কয়েকটি এলাকার একটি ফিটনেস সেন্টার, একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান, একটি শপিং সেন্টার এবং একটি ব্যক্তিগত বাড়ির ক্ষতি করেছে। শপিং সেন্টারে আগুনও লাগে।
অন্যদিকে রাশিয়ার রোস্তভ অঞ্চলে পৃথক একটি ড্রোন হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। হামলায় একটি লোকোমোটিভ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দুটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় আগুন লেগেছে।
গত মঙ্গলবারের হামলার পর প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছিলেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা বাড়ানোকে তিনি যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়ার তেল শোধনাগার, নৌঘাঁটি, তেল ডিপো ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে ইউক্রেন। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় আয়ের বড় অংশই আসে জ্বালানি খাত থেকে। ফলে তেল স্থাপনাগুলোর ওপর ধারাবাহিক হামলা মস্কোর জন্য নতুন চাপ তৈরি করছে।
এর জবাবে বৃহস্পতিবার রাতে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে সাতটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ২৩৯টি ড্রোন নিক্ষেপ করে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব হামলায় আবাসিক বাড়ি, জ্বালানি অবকাঠামো এবং বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলন এবং ব্রাসেলসে ন্যাটোর বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধ অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, ইউক্রেনকে শক্তিশালী রাখতে প্রয়োজনীয় অস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়ে মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ইউক্রেনকে শক্তিশালী রাখা জরুরি। মিত্ররা এ লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।’







































